দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জ্বরঠোসার ভাইরাসের কারণে প্রতি বছর অনেক মানুষ অন্ধ হয়ে যান। এটা যৌনাঙ্গে ছড়িয়ে হার্পিস নামের রোগ সৃষ্টি করতে পারে। যেটা একবার হলে সারা জীবন থেকে যায়। আবার বয়স হলে লোকেদের যে স্মৃতিশক্তি লোপ পায় অলঝেইমার্স রোগ, সেই রোগের সঙ্গে এই ভাইরাসের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
এই জ্বরঠোসা যে এতো বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে, সেটা আমরা জানিনা বলেই এটাকে আমরা সাধারণত গুরুত্ব দেই না। ডা. তাসনিম জারা তার ইউটিউব চ্যানেলে এক ভিডিও বার্তায় এই সমস্যা থেকে নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। চলুন সেসব জেনে নেওয়া যাক:
১. চোখের সুরক্ষা
আমাদের চোখের সামনে একটা পরিষ্কার আবরণ থাকে। নাম কর্নিয়া। এটি কিছুটা চোখের জানালার মতো কাজ করে। কর্নিয়ার সমস্যার কারণে বিশ্বে যতো মানুষ অন্ধ হয়ে যায়, তার মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো হার্পিস ভাইরাস। যার কারণে জ্বরঠোসা হয়। অর্থাৎ জ্বরঠোসা থেকে ভাইরাস যদি চোখে চলে যায় তাহলেই বিপদ ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
এক্ষেত্রে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে ৪ টি বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।
১. জ্বরঠোসা হলে সেখানে হাত লাগাবেন না।
২. কোনো কারণে জ্বরঠোসায় হাত লেগে গেলে সাবানপানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।
৩. খেয়াল রাখতে হবে জ্বরঠোসা থাকা অবস্থায় যেন চোখে হাত না লাগে।
৪. কোনো কারণে যদি চোখে হাত লাগাতে হয় তাহলে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।
এটা নিয়ে খুব ভয় পাবেন না। ভাইরাস চোখে চলে যাওয়া মানেই যে অন্ধ হয়ে যাবেন তেমন নয়। অনেকের ক্ষেত্রেই এটা ভালো হয়ে যায়। তবে জটিল ইনফেকশন হওয়ার যেহেতু একটা সম্ভাবনা আছে, সেহেতু সতর্কতা অবলম্বন করাই শ্রেয়।
২. যৌনাঙ্গের হার্পিস থেকে সুরক্ষা
জ্বরঠোসা পুরোপুরি সেরে না যাওয়ার আগে পর্যন্ত সঙ্গীর যৌনাঙ্গের কাছে মুখ না নেওয়া। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জ্বরঠোসাটা কখন ছোঁয়াচে। এটি চামড়ায় ওঠার আগে থেকেই ছোঁয়াচে হয়। এটি ওঠার আগে থেকেই বোঝা যায়। চামড়া জ্বলা ও চুলকানোভাব এই অনুভূতিটা যখন থেকে হয় তখন থেকেই এর ভাইরাস ছড়ানো শুরু হয়। তাই যখন থেকে এটা বুঝতে পারবেন সেখান থেকে একদম জ্বরঠোসা সেরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সব রকম সাবধানতা মেনে চলবেন।
৩. অলঝেইমার্স রোগ
এমন অনেক মানুষ দেখেছেন, যাদের স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছে। কোনো কিছু মনে রাখতে পারে না। একই প্রশ্ন বার বার করেন অথবা কথা বলতে গেলে কথা খুঁজে পায় না। এই সবকিছুই অলঝেইমার্স রোগের লক্ষণ। সম্প্রতি কিছু গবেষণায় এর সঙ্গে জ্বরঠোসার ভাইরাসের একটা সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এই ভাইরাস থেকেই যে অলঝেইমার্স রোগ হচ্ছে সেটা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে অনেকগুলো গবেষণা সেই দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাই আপনার যদি জ্বরঠোসা হয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখবেন এই ভাইরাস যেন আপনার কাছ থেকে আশেপাশের মানুষের না ছড়ায়।
এক্ষেত্রে আপনজনদের সুরক্ষিত রাখতে, আপনার খাবার, পানি ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র অন্যজনের সঙ্গে শেয়ার করবেন না। বিশেষ করে জ্বরঠোসায় লাগে এমন জিনিসপত্র। যেমন- চামচ, গ্লাস, তোয়ালে, রেজার, লিপস্টিক ও লিপজেল এসব আলাদা রাখবেন যাতে আরেকজন ব্যবহার করেতে না পারে।
৪. নবজাতক ও দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকলে এই ভাইরাস মারাত্মক হতে পারে। যেমন- নবজাতক শিশুদের আমরা অনেকেই আদর করে চুমু দেই। কিন্তু জ্বরঠোসা থাকা অবস্থায় যদি এটি কেউ করে তাহলে তা শিশুর জন্য ক্ষতিকর। কারণ এসময় নবজাতকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সেরকমভাবে গড়ে ওঠেনি। ফলে ভাইরাস ছড়িয়ে মারাত্মক ইনফেকশন হতে পারে এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
তাই আপনার যদি জ্বরঠোসা থাকে, আপনার আশেপাশে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল যেমন- নবজাতক, গর্ভবতী নারী, ডায়াবেটিস আছে এমন রোগী, কেমোথেরাপি পাচ্ছে এমন রোগী। অথবা অন্য যেকোনো কারণে যদি কারো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকে তাদের পাশে খুব সাবধান থাকবেন, যেন এই ভাইরাস তাদের মাঝে না ছড়ায়।
ডা. তাসনিম জারা বলেন, জ্বরের সঙ্গে জ্বরঠোসার কোনো সম্পর্ক নেই। এই দুটো সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস। জ্বর অনেক কারণেই হতে পারে। আর জ্বরঠোসা হয় একটা নির্দিষ্ট ভাইরাসের কারণে। নাম হার্পিস সিম্প্লেক্স ভাইরাস। এটি একবার শরীরে ঢুকলে তা সারাজীবন থেকে যায়। এজন্য বার বার জ্বরঠোসা হয়। সাধারণত ভাইরাসটি চুপ করে বসে থাকে। তেমন ঝামেলা করে না। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে জেগে ওঠে জ্বরঠোসা তৈরি করে।
আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হলে যেমন- ঠাণ্ডা লাগলে বা জ্বর এলে এই ভাইরাসটি জেগে ওঠে জ্বরঠোসা হতে পারে। আর এটা দেখেই হয়তো বুদ্ধিমান কেউ এর নাম দিয়েছিল জ্বরঠোসা। আবার অন্য কোনো ইনফেকশন হলে, মানসিক চাপে থাকলে, খুব ক্লান্তি লাগলে অথবা পিরিয়ডের সময় এই ভাইরাস জেগে ওঠে জ্বরঠোসা তৈরি হতে পারে।
এস