দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মোড়কজাত খাবারের প্রবণতা। এসব খাবারে লবণ, চিনি এবং ট্রান্সফ্যাটের মতো উপাদান বেশি থাকে। এ সব উপাদানগুলোর অপরিমিত ব্যবহার হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক রোগের অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (৩০ মার্চ) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে সেন্টার ফর ‘ল’ অ্যান্ড পলিসি এফেয়ার্স (সিএলপিএ) আয়োজিত ‘স্বাস্থ্যকর খাদ্য নিশ্চিতে বিদ্যমান আইন, নীতিমালা: প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়’ শীর্ষক পরামর্শক সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
তারা বলেন, নাগরিকের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে মোড়কজাত খাবারে লবণ, চিনি এবং ট্রান্সফ্যাটের ব্যবহার কমাতে হবে। আর এ লক্ষ্যে মোড়কজাত খাবারে ট্রাফিক লাইট মার্কিংসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণী করা জরুরি। যাতে নাগরিকরা মোড়কে মার্কিং দেখে সহজে বুঝতে পারে, এতে কি পরিমান লবণ, চিনি এবং ট্রান্সফ্যাট রয়েছে। এছাড়া শিশুদের নিকট বা শিশুদের লক্ষ্য করে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যের বিজ্ঞাপন বন্ধের আইন গ্রহণ করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. শহীদুল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারি, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব নুরুন্নবী বুলবুল।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যমান মোড়কজাত খাদ্যের মোড়কে লিখিত পুষ্টির তথ্য দেওয়া হয়। কিন্তু এসব তথ্য সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। বিদ্যমান নিরাপদ খাদ্য আইন অনুসারে মোড়কজাত খাবারে ট্রাফিক লাইট মার্কিংসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণী নিশ্চিত করা জরুরি। যাতে অক্ষর জ্ঞানহীন মানুষরাও মোড়কে কালার দেশে স্বাস্থ্যকর খাদ্য সম্পর্কে ধারণা পেতে পারে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, খাদ্যের মোড়ক নিয়েও সতর্ক হতে হবে মানুষকে, কেননা এখন মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের দেহে চলে আসছে। যা থেকে ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশে অনেক অস্বাস্থ্য খাদ্যের বিজ্ঞাপন হয়। অস্বাস্থ্য খাদ্যে শিশুদের আকৃষ্ট করতে নানা অপতৎপরতা চালাতে এসব বিজ্ঞাপন প্রচার করছে। আইনের মাধ্যমে এ সব অস্বাস্থ্য খাদ্যের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা জরুরি।
বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ ডায়বেটিসে ৭ম এবং হাইপ্রেসারে ১০ম। দ্রুত স্বাস্থ্য খাতে অসংক্রামক রোগের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে দেশের স্বাস্থ্য খাত হুমকির মুখে পড়বে। চিকিৎসা ব্যয়ে মানুষ দ্রুত দরিদ্র হয়ে যাচ্ছে। অকারণে অনিয়ন্ত্রিতভাবে গ্যাস্টিকের ওষুধ গ্রহণ করে কিডনিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলছে মানুষ। ফলে সরকারকে চিনি, লবণ, প্যাকেট জাতীয় খাবারে উচ্চ হারে করারোপ করে, সেই অর্থ চিকিৎসা খাতে ব্যয় করতে হবে বলে মতামত দেন তারা।
সভায় বক্তারা নিরাপদ খাদ্য অনুসারে মোড়কজাত খাবারে ট্রাফিক লাইট মার্কিংসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদান, খাদ্যে ট্রান্স ফ্যাট শূন্যের কোটায় নিয়ে আসা, তাজা ফল ও শাকসবজি মজুত ও সংরক্ষণে নীতি গ্রহণ, শিশুদের লক্ষ্য করে অস্বাস্থ্য খাদ্যের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করার সুপারিশ করেন।
সভার সভাপতিত্ব করেন সিএলপিএর রিসার্চ কন্সালটেন্ট অধ্যাপক ডা. আফম সারোয়ার এবং সঞ্চালনা করেন সিএলপিএর পলিসি এনালিস্ট কামরুন্নিছা মুন্না। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কে