দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দীর্ঘদিন অভিনয় থেকে দূরে থাকা চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপির নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা। ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, সিনেমায় অভিনয় করে ‘পাপ কামিয়েছেন’ এবং সেই পাপ ধুয়েমুছে মরতে চান পপি। তবে এমন কোনো কথা তিনি বলেননি দাবি করে বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই ফটোকার্ডে পপির নামে লেখা হয়, ‘যতটা পাপ কামিয়েছি, তার সবটা ধুয়েমুছে সুন্দরভাবে মরতে চাই।’ অল্প সময়ের মধ্যেই বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নজরে আসার পর এর প্রতিবাদ করেন পপি।
এ বিষয়ে পপি গণমাধ্যমকে জানান, কোথাও তিনি এমন কথা বলেননি। বরং চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি সুনাম, সম্মান, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি কোথাও কিন্তু এই কথাটা বলিনি। বরং ফিল্ম করে আমি সুনাম, সম্মান, রাষ্ট্রীয় সম্মান এবং দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছি। আমার ইন্ডাস্ট্রির মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেয়েছি।’
ভুল কথাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে কোনো শিল্পীকে ছোট করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন পপি। তিনি বলেন, ‘অন্ততপক্ষে একজন শিল্পীকে ভালো না বাসতে পারি, কিন্তু তার সম্পর্কে বাজে কথা ছড়িয়ে তার সম্মানহানি আমরা কেউ করতে পারি না। কারও এটা করার অধিকার নেই। যারা এ ধরনের কথা ছড়ায়, আল্লাহ যেন তাদের হেদায়েত করেন।’
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন জানিয়ে পপি বলেন, ‘রাজ্জাক ভাই, আলমগীর ভাই, কবরী আপা, শাবানা আপা, ববিতা আপা এবং অনেক বড় মাপের অভিনয়শিল্পী, প্রযোজক, পরিচালক ও কলাকুশলীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। নিজেকে নিয়ে অনেক গর্ব করি, আমি এই ইন্ডাস্ট্রির মানুষ। এই ইন্ডাস্ট্রি আমার পরিবার।’
চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত মানুষের আয় নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন পপি। তার মতে, চলচ্চিত্রের প্রত্যেক মানুষের আয় কঠোর পরিশ্রমের বিনিময়ে অর্জিত। পপি বলেন, ‘চলচ্চিত্রের প্রত্যেকটা মানুষের ইনকাম আমি মনে করি রক্ত পানি করা টাকা, শতভাগ হালাল। অনেক কষ্ট করতে হয় একটা ছবি করতে গেলে। এখানকার প্রতিটা মানুষের ইনকামই হালাল—ভুল ব্যাখ্যা করার এখানে কোনো সুযোগই নেই।’
পপির বক্তব্য দাবি করে ছড়ানো ফটোকার্ডটি ফেসবুকে শেয়ার করেছিলেন অভিনয়শিল্পী ও উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়। সেখানে তিনি লেখেন, ‘নায়িকা মৌসুমী যা বলেছিলেন, পপিও তা বললেন। এখন শাবনুর ও পূর্ণিমা একই কথা বললে একটা জেনারেশন পূর্ণ হতো।’
জয়ের ওই পোস্টে মন্তব্য করেন চিত্রনায়ক বাপ্পারাজ। তিনি লেখেন, ‘যখন ইনকাম করা হয়, তখন পাপ মনে হয় না। বেকার হয়ে গেলেই মনে হয়, আগে পাপ করেছি। ইবাদত সব সময়ের জন্যই, বেকারদের জন্য নয়।’
যদিও পরে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন শাহরিয়ার নাজিম জয়। তিনি জানান, তার প্রশ্ন ছিল—শিল্পীরা নিজেদের ভুল বুঝতে পারলেও তাদের ভক্তরা, যারা তাদের অনুসরণ করে ভুল করেছেন বলে মনে করছেন, তাদের কী হবে? একই সঙ্গে ইবাদতের সময় ভক্তদের জন্যও দোয়া করার কথা বলেন তিনি।
তবে পপি আবারও স্পষ্ট করে জানান, সিনেমায় অভিনয় করে পাপ কামিয়েছেন কিংবা সেই পাপ ধুয়েমুছে মরতে চান—এমন কোনো কথা তিনি বলেননি। তার ভাষায়, ‘আমি কোথাও বলিনি, সিনেমায় অভিনয় করে পাপ কামিয়েছি। আর সেসব পাপ এখন ধুয়েমুছে মরতে চাই। আমার নামে যা ছড়ানো হচ্ছে, এসব সম্পূর্ণ ভুল, মিথ্যা। কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরনের একটা বক্তব্য আমার নামে যারা ছড়িয়েছেন, তারা অন্যায় করেছেন, তারাই পাপ করেছেন।’
অভিনয়কে কখনোই পাপ হিসেবে দেখেননি জানিয়ে পপি বলেন, ‘চলচ্চিত্র আমার কাছে বরাবরই সম্মানের জায়গা। জীবিকার তাগিদে অভিনয় করেছি এবং সেই কাজের মাধ্যমে পেয়েছি সম্মান ও ভালোবাসা। এটা আমার পেশা। অভিনয় করে যে সম্মান ও সম্মানী পেয়েছি, তাতে আমার সংসার যেমন চলেছে, দেশ-বিদেশের মানুষের কাছ থেকে সম্মান ও ভালোবাসাও পেয়েছি।’
তবে পরিবারকে ঘিরে অতীতের কিছু অভিজ্ঞতার কথাও জানান পপি। তার দাবি, অভিনয় করতে গিয়ে পরিবারের জন্য অনেক কিছু ত্যাগ করেছেন তিনি। পপি বলেন, ‘অভিনয় করতে গিয়ে কিছু অমানুষও লালনপালন করেছি। নিজের জন্য কিছু না করে পরিবারের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছি। সেটা আমার জন্য পাপ ছিল। পরিবারের প্রতি ক্ষোভ থেকে অনেক আগে কিছু কথা বলেছিলাম। কিন্তু সেই বক্তব্যকে এখন ভিন্ন অর্থে উপস্থাপন করে অপমানের চেষ্টা করা হচ্ছে। সিনেমা ও অভিনয় অঙ্গন বরাবরই আমার কাছে সম্মানের ও শ্রদ্ধার জায়গা। সেই জায়গাকে কখনো আমি ছোট করতে পারব না।’
শিল্পীদের নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পপি। তার মতে, একজন শিল্পী রাতারাতি তৈরি হন না। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, কষ্ট ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে তার অবস্থান তৈরি হয়। পপি বলেন, ‘একজন শিল্পী কিন্তু রাতারাতি তৈরি হন না। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, কষ্ট ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে একজন শিল্পী তৈরি হন। তাই কোনো শিল্পীকে নিয়ে কিছু লেখার আগে তার বক্তব্য ও অবস্থান বোঝার চেষ্টা করা উচিত।’
চলচ্চিত্রে এখন কাজ না করলেও নিজের অর্জন মুছে যায়নি বলেও জানান পপি। তিনি বলেন, ‘আমি এখন সিনেমায় কাজ করি না, ঠিক আছে। তার মানে আমাকে নিয়ে যা–তা বলা ঠিক হবে না। সিনেমা করছি না বলে আমার সমস্ত অর্জন নষ্ট হয়ে যাবে? এত বছর যা অর্জন করেছি, তা মৃত্যুর আগপর্যন্ত থাকবে।’
উদাহরণ হিসেবে শাবানার কথা উল্লেখ করে পপি বলেন, ‘শাবানা ম্যাডাম অনেক বছর ধরে ফিল্মে কাজ করেন না, তাই বলে তার প্রাপ্য সম্মান দেব না? কাজ করছি না বলে এখন আমাকেও অসম্মান করা হবে!’
ভক্ত ও সহকর্মীদের উদ্দেশে পপির অনুরোধ, অন্যের মনগড়া কথা শুনে যেন তাকে ভুল না বোঝা হয়। তিনি বলেন, ‘মৃত্যুর আগপর্যন্ত সিনেমার মানুষদের নিয়ে আমার মুখ থেকে একটা বাজে শব্দ বের হবে না। কারণ, আমি যত দিন কাজ করেছি, সম্মানের সঙ্গে মানুষের ভালোবাসা নিয়েই কাজ করেছি।’
/অ