দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলার লোকসংগীত ও মরমি গানের ঐতিহ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন লালনশিল্পী সূচনা শেলী। আগামী ১ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর কিরগিজ প্রজাতন্ত্রে বসছে ষষ্ঠ বিশ্ব নোমেডিক গেমস।
এই আয়োজনের সাংস্কৃতিক পর্বে ফোক গানের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হয়ে অংশ নেবেন তিনি। তার সঙ্গে থাকবে ব্যান্ড দল ‘দিব্যজ্ঞানী’।
কিরগিজস্তানে এটি সূচনা শেলীর দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ। এর আগে ২০২৫ সালে দেশটিতে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হয়ে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সেখানে শতাধিক দেশের প্রতিযোগীর মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন এই শিল্পী।
আগের সাফল্যের পর এবার আরও বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনে বাংলার লোকসংগীত তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন সূচনা। বিশ্ব নোমেডিক গেমসের সাংস্কৃতিক আয়োজনে বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের অংশগ্রহণে ফোক গানের প্রতিযোগিতা হবে। সেখানে বাংলার লোকগানের নিজস্ব সুর, ঐতিহ্য এবং মরমি দর্শন তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে সূচনা ও ‘দিব্যজ্ঞানী’র।
লালন শাহের মানবতাবাদী দর্শন সূচনা শেলীর সংগীতচর্চার অন্যতম অনুপ্রেরণা। লালনের পাশাপাশি বাংলার বিভিন্ন লোক ও মরমি ধারার গানও পরিবেশন করেন তিনি। তার গানের তালিকায় ভবা পাগলা, মনমোহন দত্ত, হাসন রাজা, শাহ আবদুল করিম ও মাতাল রাজ্জাক দেওয়ানসহ বিভিন্ন সাধক ও লোকশিল্পীর সৃষ্টি রয়েছে।
সূচনা মনে করেন, লোকগান কেবল বিনোদনের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার মানুষের জীবনদর্শন, আত্মঅনুসন্ধান ও মানবিকতার ইতিহাস। তাই আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের কাছে বাংলাদেশের লোকসংগীতের বৈচিত্র্য ও নিজস্বতা তুলে ধরাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।
এ প্রসঙ্গে সূচনা শেলী বলেন, বাংলাদেশের লোকসংগীত শুধু আমাদের সংস্কৃতির অংশ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের মানুষের জীবন, দর্শন, আত্মঅনুসন্ধান ও মানবিকতার দীর্ঘ ঐতিহ্য। আন্তর্জাতিক একটি মঞ্চে দাঁড়িয়ে সেই গান ও দর্শনকে বিশ্বের মানুষের সামনে তুলে ধরতে পারা আমার জন্য একই সঙ্গে আনন্দের ও গর্বের।
আগের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৫ সালে কিরগিজস্তানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা আমাকে আরও অনুপ্রাণিত করেছে। এবার ষষ্ঠ বিশ্ব নোমেডিক গেমসের সাংস্কৃতিক আয়োজনে ‘দিব্যজ্ঞানী’কে সঙ্গে নিয়ে আবারও বাংলাদেশের হয়ে অংশ নিচ্ছি।
এবারের পরিবেশনায় কী তুলে ধরবেন, সে প্রসঙ্গে সূচনা বলেন, আমরা চেষ্টা করব আমাদের পরিবেশনায় বাংলার মাটি, মানুষের জীবন, লালনের মানবতাবাদী দর্শন এবং বাংলার মরমি সংগীতের বৈচিত্র্য তুলে ধরতে। প্রতিযোগিতায় ভালো করার পাশাপাশি বিশ্বের মানুষের কাছে বাংলাদেশের লোকসংগীতের স্বকীয়তা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।
সংস্কৃতির কোনো সীমানা নেই উল্লেখ করে সূচনা আরও বলেন, একটি গানও পারে একটি দেশের মানুষের সঙ্গে আরেক দেশের মানুষের হৃদয়ের যোগাযোগ তৈরি করতে। সেই বিশ্বাস নিয়েই এবারও বাংলাদেশের পতাকা ও বাংলার লোকগানকে সঙ্গে নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে যাচ্ছি।
কে