দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলা চলচ্চিত্রে কৌতুক অভিনয়ের এক অনন্য নাম দিলদার। টানা তিন দশকের ক্যারিয়ারে অসংখ্য ব্যবসাসফল সিনেমায় অভিনয় করে তিনি জয় করেছেন কোটি দর্শকের হৃদয়। পর্দায় তার উপস্থিতি মানেই ছিল হাসির ঝলক আর নির্মল বিনোদন। ২০০৩ সালের এই দিনে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ‘হাসির রাজা’ খ্যাত এই গুণী অভিনেতা। তার প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাভরে তাকে স্মরণ করেছে দেশ টিভি।
পর্দায় তার প্রতিটি উপস্থিতিই যেন দর্শকদের মুখে ফুটিয়ে তুলত হাসি। তার অভিনীত চরিত্র মানেই ছিল পুরো সিনেমাজুড়ে প্রাণবন্ত আনন্দের আবহ। টানা তিন দশক বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকদের নির্মল বিনোদন উপহার দিয়ে কৌতুক অভিনয়কে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়। তিনি দিলদার-বাংলা সিনেমার এক অবিস্মরণীয় কিংবদন্তি।
১৯৪৫ সালের ১৩ জানুয়ারি চাঁদপুরে জন্ম গ্রহণ করেন দিলদার। কে জানতো একসময় তিনি হবেন বাংলা সিনেমার কৌতুক অভিনয়ের এক সফলতম তারকা। বয়স যখন ২০, তখন দাঁড়ান ক্যামেরার সামনে। অবশ্য অভিনয়ের ঝোঁক ছিল ছোটবেলা থেকেই। ছোটবেলা দেখা স্বপ্নই তাকে টেনে আনে রূপালি পর্দা অব্দি।
১৯৭২ সাল। ‘কেন এমন হয় নামের চলচ্চিত্র দিয়ে অভিষেক হয় দিলদারের। আর থেমে থাকতে হয়নি তাকে। সফল সিনেমার অভিনেতার তকমা লেগে যায় তার নামের সঙ্গে। ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ ‘বিক্ষোভ’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘কন্যাদান’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘সুন্দর আলীর জীবন সংসার’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘আনন্দ অশ্রু, ‘শান্ত কেন মাস্তান’সহ বহু জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে সরব উপস্থিতি আছে দিলদারের। সব মিলিয়ে অভিনয় করেছেন পাঁচ শতাধিক সিনেমায়।
শুধু কৌতুক অভিনেতা হিসেবে নয়, দিলদার নিজ নামে ও চরিত্রে দিলদার অসামান্য জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলেন আশি ও নব্বই দশকে। ঠিক তখন তাকে নায়ক বানিয়ে নির্মাণ করা হয় একমাত্র সিনেমা আব্দুল্লাহ। বিপরীতে ছিলেন নূতন। সিনেমাটি সানন্দেই গ্রহণ করেছিলেন দেশের দশর্ক। নায়িকা হিসেবে নতুনকে পেলেও দিলদার সঙ্গে বেশিরভাগ সিনেমায় সহশিল্পী ছিলেন নাসরিন। তার সঙ্গে অভিনয় নাসরিনের জীবনে সেরা প্রাপ্তি।
জীবনের শেষ সময়ে পেয়েছিলেন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। ২০০৩ সালে ‘তুমি শুধু আমার’ সিনেমার জন্য সেরা কৌতুক অভিনেতা হিসেবে পান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। পুরস্কার পাওয়ার বছরেই আজকে দিনে বিদায় নেন দিলদার। এক অসামান্য কৌতুক অভিনেতা হারায় দেশের চলচ্চিঙ্গান।
দিলদারের মৃত্যুর পর ঢাকাই সিনেমা আর কোনো কৌতুক অভিনেতা এমন আলো ছড়াতে পারেননি। হাসির রাজা হয়ে উঠতে পারেননি কেউই। তার কর্মের মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রের বিস্ময়কর নাম হয়ে আছেন দিলদার। এখনও দর্শক খুঁজে ফেরেন হারিয়ে যাওয়া সেই দিলদারকেই।
কেএম