দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

তেলুগু সিনেমার বর্ষীয়ান অভিনেতা মোহন বাবুর জীবন যেন সংগ্রাম থেকে সাফল্যের এক অনন্য গল্প। একসময় শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক হিসেবে মাসে মাত্র ৪০ রুপি বেতনে কাজ করা এই অভিনেতা এখন হায়দরাবাদের জলপল্লিতে ১০ একরজুড়ে তৈরি বিলাসবহুল বাড়িতে বসবাস করেন।
অভিনেতার এই বিশাল বাড়িটি দেখতে অনেকটা বিলাসবহুল অবকাশকেন্দ্রের মতো। সেখানে রয়েছে সাজানো বাগান, অসীম প্রান্তের সুইমিং পুল, পুরস্কার প্রদর্শনীর স্থান, ব্যক্তিগত সিনেমা হল এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমি।
তবে এই সাফল্যের পথ সহজ ছিল না মোহন বাবুর জন্য। এক সময় তার নিজের ছিল মাত্র এক সেট পোশাক। এমন দিনও গেছে, যখন এক বেলা খাবার কেনার সামর্থ্যও ছিল না। ক্ষুধার সময় শুধু পানি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়তে হয়েছে তাকে।
এক সাক্ষাৎকারে নিজের শুরুর দিনের কথা স্মরণ করে মোহন বাবু বলেন, তার বাবা ছিলেন শিক্ষক এবং তিনিও এক বছর শিক্ষকতা করেছেন। বাবার কাছ থেকেই তিনি শৃঙ্খলার শিক্ষা পেয়েছেন।
তিনি জানান, জীবনের কঠিন সময়ে তাকে গাড়ি রাখার ঘরেও থাকতে হয়েছে। সেই ঘরের ভাড়া ছিল ৩০ রুপি, সেখানে ছিল না কোনো শৌচাগার বা গোসলের ব্যবস্থা। দীর্ঘ ৫৫ বছরের বেশি সময়ের পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন।
বিলাসবহুল বাড়ির অন্দরমহল
মোহন বাবুর মেয়ে ও অভিনেত্রী লক্ষ্মী মাঞ্চু তার ইউটিউব চ্যানেলে বাবার এই বাড়ির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, জলপল্লির এই বাড়িটি তার বাবার ষষ্ঠ বাড়ি। এর আগে চেন্নাইয়ে দুটি, তিরুপতিতে দুটি এবং হায়দরাবাদে দুটি বাড়ি তৈরি করেছেন তিনি।
বাড়ির বিভিন্ন স্থানে রয়েছে চিত্রকর্ম, পারিবারিক ছবি এবং মোহন বাবু ও তার সন্তানদের অভিনয়জীবনের স্মারক।
বাড়ির বিশাল বসার ঘরে রয়েছে একটি বড় আকারের অভ্যন্তরীণ ঝরনা এবং শিল্পী সচিন জালতারের আঁকা শিব-পার্বতীর একটি দেয়ালজুড়ে চিত্রকর্ম। সেখানে রয়েছে ডিজিটাল নিরাপত্তাব্যবস্থায় থাকা ব্যক্তিগত পানীয় সংরক্ষণের কক্ষও।
কাচের তৈরি খাবার টেবিল থেকে দেখা যায় সবুজ বাগান, যেখানে প্রায়ই ময়ূর দেখা যায়। পাশে রয়েছে দৈনন্দিন রান্নার জন্য আলাদা রান্নাঘর এবং আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন আরেকটি রান্নাঘর।
বাড়ির নিচতলায় রয়েছে আলাদা খেলনার ঘর। মোহন বাবুর সন্তানদের শৈশবের খেলনাগুলো সেখানে সংরক্ষিত আছে, যা এখন তার নাতি-নাতনিরা ব্যবহার করে। এছাড়া রয়েছে বড় একটি হলঘর, যেখানে গল্প আলোচনা, নাচের মহড়া ও পারিবারিক অনুষ্ঠান হয়।
বিনোদন ও কৃষির ব্যবস্থাও রয়েছে
মোহন বাবুর বাড়িতে রয়েছে ২০ জনের বেশি মানুষের বসার ব্যবস্থা থাকা ব্যক্তিগত সিনেমা হল, বাষ্পস্নানের কক্ষ, উষ্ণ বাষ্প কক্ষ এবং চলচ্চিত্রের ডিস্ক সংরক্ষণের আলাদা স্থান।
বাড়ির ছাদে রয়েছে সুইমিং পুল। তার শোবার ঘর থেকে চারপাশের জঙ্গলের শান্ত পরিবেশ দেখা যায়।
এই বিশাল সম্পত্তির মধ্যেই রয়েছে কৃষিজমি। সেখানে বাঁধাকপি, জুকিনি ও টমেটোর মতো সবজি চাষ করেন তিনি। পাশাপাশি রয়েছে অসংখ্য নারকেল গাছ।
শিক্ষক থেকে তারকা হওয়ার গল্প
অভিনয়ে আসার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন বাবার কাছ থেকে। তার বাবা ছিলেন মঞ্চ অভিনেতা। দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবার চোখে পড়ে একটি বিজ্ঞাপন—‘আমরা অভিনেতা চাই।’
মোহন বাবু জানান, মাত্র ১৮০ রুপি মাসিক আয় করা তার বাবা আবেদন পাঠানোর জন্য ৫০ রুপি খরচ করেছিলেন। সেই সময় তিনি মাসে ৪০ রুপি বেতনে শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘আমি প্রথমে একটি স্কুল শুরু করেছিলাম, আর আজ আমার একটি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।’
অভিনয় ক্যারিয়ারের পাশাপাশি তিনি শিক্ষা খাতেও বড় প্রতিষ্ঠান গড়েছেন। বর্তমানে তার একটি স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। বাড়িতে প্রায় ২৫ জন কর্মী কাজ করেন।
বাড়িতেও কঠোর নিয়ম মানেন মোহন বাবু
বিলাসবহুল জীবনযাপন করলেও শৃঙ্খলার বিষয়ে কঠোর মোহন বাবু। তার বাড়িতে দুটি নিয়ম কঠোরভাবে মানা হয়—ঘরের ভেতরে জুতা পরা যাবে না এবং খাবার সময় কথা বলা যাবে না।
প্রতিদিনের সকালের পূজাও তিনি কখনো বাদ দেন না।
লক্ষ্মী মাঞ্চু জানান, অসুস্থ থাকলেও মোহন বাবু গোসল করে গেরুয়া পোশাক পরে সকালের পূজা সম্পন্ন করেন।
নিজের দৈনন্দিন জীবন সম্পর্কে মোহন বাবু বলেন, তাদের বাড়িতে কলাপাতায় খাবার খাওয়া হয়, কারণ এটি পবিত্র বলে বিবেচিত। সকালের খাবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে এবং দুপুরের খাবার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে ১টার মধ্যে পরিবেশন করতে হয়। এর বেশি দেরি হলে তিনি খাবার খান না।
/অ