দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী, পাপেটশিল্পের পথিকৃৎ ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ারকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নেমেছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে বাংলাদেশ টেলিভিশন প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর বেলা ১১টার দিকে মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘদিনের সহকর্মী, শিক্ষার্থী, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী এবং অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। প্রিয় এই শিল্পগুরুকে হারানোর বেদনায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন মুস্তাফা মনোয়ার।
শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তার মরদেহ নেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে, যেখানে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদসহ কয়েকটি স্থানে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন মুস্তাফা মনোয়ার। চিত্রকলা, পাপেটশিল্প এবং টেলিভিশনভিত্তিক শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণে তার অবদান দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর কবি গোলাম মোস্তফার পরিবারে জন্ম নেওয়া মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির অন্যতম উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব। কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন জাতীয় সম্মাননা ও স্বীকৃতিতে ভূষিত হন।
তার মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নেটিজেনরা শৈশবের স্মৃতি, তার শিল্পকর্ম এবং শিশু-কিশোরদের জন্য সৃষ্ট অবদানের কথা স্মরণ করে আবেগঘন বার্তা দিচ্ছেন। অনেকেই তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতির এক অনন্য পথিকৃৎকে হারিয়ে দেশজুড়ে নেমে এসেছে শোকের আবহ। তবে শিল্পচর্চা, পাপেটশিল্পের বিকাশ এবং দেশীয় সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে তার অবদান প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।