দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বলিউড অভিনেতা সাইফ আলী খান অবশেষে মুখ খুলেছেন সেই ভয়াবহ রাতের ঘটনা নিয়ে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজ বাসভবনে ছুরিকাঘাতের শিকার হওয়ার সেই ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন তিনি। সাইফ জানান, হামলাকারী শুধু তার ওপরই নয়, তার ছোট ছেলে জাহাঙ্গীর আলী খান (জেহ)-এর দিকেও আঘাত করেছিল।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা বলেন, গভীর রাতে হঠাৎ জেহর দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা আয়া দৌড়ে এসে আতঙ্কিত কণ্ঠে জানান, জেহর ঘরে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি ছুরি হাতে দাঁড়িয়ে আছে এবং টাকা দাবি করছে। মুহূর্তেই পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে তিনি ছেলের ঘরের দিকে ছুটে যান।
সাইফ বলেন, আমি দৌড়ে জেহর ঘরে যাই। দেখি লোকটি শিশুটিকে ধরে রেখেছে। আমার ছেলেকে ছুরি মেরেছিল আর জেহের সামান্য কেটেছিল। আমাদের গৃহকর্মীকেও আঘাত করেছিল। এখন মনে হয়, যদি ঘরের আলো জ্বালিয়ে শান্তভাবে তার সঙ্গে কথা বলতাম, তাহলে হয়তো পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত। কিন্তু তখন কিছু একটা আমাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল আর আমি তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ি। এরপর আমাদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। সে উন্মত্তের মতো ছুরি চালাতে থাকে। চারদিকে শুধু রক্ত আর রক্ত। ঠিক তখনই আমাদের আরেক গৃহকর্মী এসে তাকে জোরে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দেয়।
ঘটনার সময় সাইফ ছয়বার ছুরিকাঘাতে আহত হন। একটি আঘাত তার মেরুদণ্ডের খুব কাছ দিয়ে যায়। সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে অভিনেতা বলেন, সাদা কুর্তা-পায়জামা পরে ছিলাম, পুরো পোশাক রক্তে ভিজে গিয়েছিল। একসময় মেঝেতে পড়ে ছিলাম। তখন সত্যিই মনে হয়েছিল, হয়তো আমি আর বাঁচব না।
তিনি জানান, হাসপাতালে যাওয়ার সময় বড় ছেলে তৈমুরকে সঙ্গে নিতে চেয়েছিলেন। তৈমুর আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, তুমি কি মারা যাবে? আমি তাকে বলেছিলাম, না। তারপর আমরা একসঙ্গে হাসপাতালে যাই।
হামলাকারীকে ক্ষমা করতে পারবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সাইফ বলেন, আমি তাকে ক্ষমা করতে চেয়েছিলাম। আমার মনে হয়, সে জীবনে বড় একটি ভুল করেছে। সম্ভবত সে মারামারি করতে আসেনি। তাকে ক্ষমা করতে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু যে মুহূর্তে সে আমাকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিল, সেই অংশটা এখনো ভুলতে পারিনি। সমাজে বৈষম্যধনী-গরিবের ব্যবধান এ ধরনের ঘটনার অন্যতম কারণ বলেও আমি মনে করি।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি সাইফ আলী খানের বাসায় চুরির উদ্দেশ্যে ঢুকে এই হামলা চালানো হয়। ঘটনার তিন দিন পর ভারতের থানে এলাকা থেকে অভিযুক্ত ৩০ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক মোহাম্মদ শরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে মুম্বাই পুলিশ।
কেএম