দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আধুনিক ভারতীয় সঙ্গীত জগতের এক উজ্জ্বল নাম অনিরুদ্ধ রবিচন্দর। ২০১২ সালে ধনুষ অভিনীত ‘থ্রি’ ছবির গান ‘হোয়াই দিস কোলাভেরি ডি’ মুক্তির পরই রাতারাতি তারকা হয়ে উঠেন তিনি। সহজ কথা, আধুনিক বিট এবং তরুণ প্রজন্মের আবেগকে অনবদ্যভাবে মেলানোর ক্ষমতাই তাকে আলাদা করে তুলেছে।
এরপর তামিল ও তেলেগু সিনেমা পেরিয়ে বলিউডেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন অনিরুদ্ধ। মাস্টার, বিক্রম, লিও, পেট্টা, ডন, এবং শাহরুখ খানের ‘জওয়ান’—একাধিক ব্লকবাস্টার ছবিতে তার সুর ও ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে।
আজ কোটি টাকার পারিশ্রমিক নেওয়া সুরকার হলেও অনিরুদ্ধের যাত্রা শুরু হয়েছিল একেবারেই সাধারণভাবে। এক সময় বিয়েবাড়িতে গান গেয়ে কখনও ৫০০ টাকা, কখনও আবার শুধু একটি ‘ধন্যবাদ’ই ছিল তার প্রাপ্তি।
এক অনুষ্ঠানে সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করে অনিরুদ্ধ বলেন, ‘ছোটবেলায় বিয়েতে গান গাইলে ৫০০ টাকা পেলে খুব খুশি হতাম। কোথাও আবার পারিশ্রমিকের বদলে পান দেওয়া হতো। এখন পারিশ্রমিক কোটি টাকায় পৌঁছেছে, কিন্তু সেই সময়কার সুখ আর নেই।’
তার কথায় স্পষ্ট—টাকার অঙ্ক নয়, গান বাজানোর নেশা, লাইভ পারফরম্যান্সের উত্তেজনা আর মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগই ছিল তখনকার আসল আনন্দ। ছোট অনুষ্ঠান, বন্ধুদের আড্ডা বা বিয়েবাড়ির মঞ্চ—যেখানেই সুযোগ পেয়েছেন, সেখানেই নিজের সুর ছড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
অভূতপূর্ব সাফল্যের মাঝেও অনিরুদ্ধ বিশ্বাস করেন, যদি শুরুর দিনগুলোর আবেগ আর ভালোবাসা না থাকত, তাহলে আজকের এই উচ্চতায় পৌঁছনো সম্ভব হতো না। তাঁর গল্প শুধুই একজন সফল সুরকারের নয়, বরং সেই মানুষের—যিনি প্রমাণ করেছেন আবেগ যদি হয় চালিকাশক্তি, সাফল্য আপনিই ধরা দেয়।
চেন্নাইয়ে অনিরুদ্ধ রবিচন্দরের রয়েছে একটি আধুনিক ও আলোয় ভরপুর বিলাসবহুল বাড়ি। ন্যূনতম অভ্যন্তরীণ সজ্জা, সৃজনশীল কর্মক্ষেত্র এবং শৈল্পিক শোবার ঘর তার রুচি ও শিল্পমনস্কতার পরিচয় বহন করে। পালিশ করা কাঠের মেঝে, মসৃণ দেয়ালে লাগানো ডেস্ক এবং অভিনব দেয়াল শিল্পকর্ম বাড়িটিকে আরও আলাদা করে তুলেছে।
২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, অনিরুদ্ধ রবিচন্দরের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি টাকা (প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলার)। তিনি বর্তমানে ভারতের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত সঙ্গীত পরিচালকদের অন্যতম, একটি ছবির জন্য পারিশ্রমিক নেন আনুমানিক ৮–১০ কোটি টাকা।
সঙ্গীতের পাশাপাশি ব্যবসায়িক উদ্যোগেও সক্রিয় অনিরুদ্ধ। তিনি ভিএস ম্যানি অ্যান্ড কো. নামের একটি ফিল্টার কফি স্টার্টআপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। এছাড়াও টাকিলা ব্র্যান্ড লোকা লোকা-র সহ-স্রষ্টা হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন।
এবি/