দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, আজীবন সদস্য ও কিংবদন্তি অভিনেতা-নৃত্য পরিচালক ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান।
তিনি জানান, হঠাৎ করে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ইলিয়াস জাভেদকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। সনি রহমান সকলের কাছে মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া চেয়েছেন।
জানা গেছে, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন ইলিয়াস জাভেদ। ক্যানসারে আক্রান্ত এই অভিনেতা এর আগে ব্রেইন স্ট্রোকও করেছিলেন। গত বছরের এপ্রিলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে উত্তরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। কিছুটা সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরলেও পুরোপুরি আর সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। এছাড়া ২০২০ সালের ৪ এপ্রিল মূত্রনালির জটিলতায় অস্ত্রোপচার হয় তার। এরপর থেকেই তার জীবন চলছিল কখনো ভালো, কখনো খারাপ অবস্থার মধ্য দিয়ে।
ষাটের দশকে নৃত্য পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্রাঙ্গনে পথচলা শুরু করেন ইলিয়াস জাভেদ। পরবর্তীতে অভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। সত্তর ও আশির দশকে পোশাকি ও ঐতিহাসিক সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক হিসেবে নির্মাতাদের প্রথম পছন্দে পরিণত হন এই তারকা।
তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে, মালকা বানু, অনেক দিন আগে, শাহাজাদা, রাজকুমারী চন্দ্রবাণ, সুলতানা ডাকু, আজো ভুলিনি, কাজল রেখা, সাহেব বিবি গোলাম, নিশান, বিজয়িনী সোনাভান, রূপের রাণী, চোরের রাজা, জালিম, চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা, বাহারাম বাদশাসহ আরও বহু জনপ্রিয় সিনেমা।
ইলিয়াস জাভেদের সর্বশেষ অভিনীত চলচ্চিত্র ছিল ‘মা বাবা সন্তান’। এরপর কাজের আগ্রহ থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে আর ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো সম্ভব হয়নি তার।
রুপালি পর্দায় একসময় তুমুল জনপ্রিয় এই নায়ক জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অসুস্থতা ও বয়সের ভারে নুয়ে পড়েন। নানা রোগ তাকে যেন রাজ্য হারানো এক রাজার মতো নিঃসঙ্গ করে তোলে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফিকে হয়ে যায় রঙিন জীবনের অনেক স্মৃতি। অবশেষে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের চোখে অমলিন থাকা এই কিংবদন্তি চিরবিদায় নিলেন।
জে আই