দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত, প্রথম বাঙালি নারীবাদী সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জন্ম ও মৃত্যুদিবস উপলক্ষে মঞ্চায়িত হলো ব্যতিক্রমী কাব্যনাটক ‘রোকেয়ার স্বপ্নে আজকের সুলতানারা’।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ইসফেন্দিয়ার জাহেদ হাসান মিলনায়তনে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের ৯ তারিখে বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যুদিবস ছিল। যে সময় ভারতবর্ষের নারীরা সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া অবস্থায় ছিলেন, সেই অন্ধকার সময়ে নারী জাগরণের স্বপ্ন দেখেছিলেন বেগম রোকেয়া। নারীর স্বশিক্ষা, আধুনিক মানসিকতা ও উন্নত জীবনের প্রত্যাশা তিনি তুলে ধরেছিলেন তার সাহসী ও দূরদর্শী সাহিত্যকর্মে। সেই বিপ্লবী কল্পনাকেই কবিতার ছন্দ, সুরের মূর্ছনা ও কণ্ঠাভিনয়ের মাধ্যমে মঞ্চে উপস্থাপন করা হয় এই কাব্য নাটকে।
প্রায় এক ঘণ্টা ত্রিশ মিনিটব্যাপী পরিবেশনায় মিলনায়তনভর্তি দর্শক-শ্রোতা পিনপতন নীরবতায় মন্ত্রমুগ্ধের মতো উপভোগ করেন অনুষ্ঠানটি। মঞ্চের প্রতিটি পারফরমারের চোখেমুখ ও কণ্ঠধ্বনিতে ফুটে ওঠে বেগম রোকেয়ার দৃঢ়তা, অদম্য স্পৃহা ও অনড় সংকল্প, যা অনুরণিত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে দর্শক গ্যালারিজুড়ে।
প্রযোজনাটির গ্রন্থনা ও নির্দেশনা দেন নার্গিস সুলতানা। একই সঙ্গে পোশাক পরিকল্পনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানেও ছিলেন তিনি। আবহসংগীতে ছিলেন আরেফিন নিপুন ও মাজহারুল তুষার।
বেগম রোকেয়াকে নিয়ে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন সম্পর্কে নির্দেশক নার্গিস সুলতানা বলেন, বেগম রোকেয়ার সাহসী ও ক্ষুরধার লেখনী এবং তার দূরদর্শী চিন্তা-চেতনা ও দর্শনই আমাদের ‘রোকেয়ার স্বপ্নে আজকের সুলতানারা’ অনুষ্ঠানের মূল ভিত্তি। তার অমিয় বাণীকে পাথেয় করে আমরা কাব্য ও নাট্যের মাধ্যমে সমাজে নারীর বর্তমান অবস্থান এবং তার স্বপ্নের বাস্তবায়ন কতটুকু হয়েছে, সেটি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
তিনি আরও বলেন, আজ শত বছর পরে তথাকথিত প্রগতিশীল সমাজে দাঁড়িয়ে আমাদের প্রশ্ন আজকের সুলতানারা কেমন আছেন? রোকেয়ার স্বপ্ন কতখানি বাস্তবে রূপ নিয়েছে? আজকের নারী কি সত্যিই ‘অবাদী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছে, নাকি রোকেয়ার সুলতানারা এখনও নিজেদের অধিকার ও অস্তিত্বের লড়াইয়ে ব্যতিব্যস্ত? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার প্রয়াসই এই কাব্যনাটক।
নার্গিস সুলতানা বলেন, কবিতার বলিষ্ঠ উচ্চারণ ও শ্রুতি অভিনয়ের মাধ্যমে তারা বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছেন রোকেয়ার সুলতানারা সমাজকে নতুন আলোর প্রান্তে নিয়ে যেতে পেরেছেন কি না, নাকি শত প্রতিকূলতায় তারা স্বপ্ন দেখতে ও স্বপ্নে বাঁচতে ভুলে গেছেন।
যেসব নারীরা বেগম রোকেয়ার স্বপ্নের পৃথিবীকে বাস্তবে পরিণত করতে লড়াই-সংগ্রামে সোচ্চার রয়েছেন, সেই সব রোকেয়া-অনুরাগীদের জন্য এই আয়োজনটি উৎসর্গ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সাহিত্য ও সংস্কৃতির সৃজনশীল প্ল্যাটফর্ম ‘লেখার পোকা’-র পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই কাব্য নাটকে আবৃত্তি, শ্রুতি কথন ও অভিনয়ে অংশ নেন নার্গিস আক্তার, রেজিনা খন্দকার, জয়া হাওলাদার, আবুল ফজল, তোফাজ্জল হোসেন তপু, সুজন রেহমান, নূরাইশা হাসান সামিয়া, মীর উমাইয়া হক পদ্ম, উম্মে হাবিবা শিবলী, অদ্রিতা ভদ্র এবং নার্গিস সুলতানা।
জে আই