দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বলিউড ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনের অন্যতম শক্তিশালী ও বহুমুখী অভিনেতা ইরফান খান। অভিনয়ের গভীরতা ও স্বতন্ত্র উপস্থিতির মাধ্যমে তিনি শুধু ভারতেই নয়, বিশ্বজুড়েও দর্শকের মন জয় করেছিলেন। তবে ২০২০ সালে ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে মাত্র ৫৩ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই কিংবদন্তি অভিনেতা।
ইরফান খানের মৃত্যুর আগে মুক্তি পাওয়া শেষ ছবি ছিল ‘আংরেজি মিডিয়াম’। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ছবিটির পোশাক শিল্পী স্মৃতি চৌহান শেয়ার করেছেন শ্যুটিং চলাকালীন ইরফানের শারীরিক অবস্থার হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতা।
স্মৃতি চৌহান জানান, ‘আংরেজি মিডিয়াম’-এর শ্যুটিংয়ের সময় ইরফানের শারীরিক অবস্থা ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছিল। তীব্র যন্ত্রণা নিয়েও তিনি নিয়মিত কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ধীরে ধীরে তার শরীর দুর্বল হয়ে পড়ছিল, এমনকি চোখে পড়ার মতোভাবে ওজনও কমে যাচ্ছিল।
তিনি আরও বলেন, অসুস্থতার কারণে অনেক সময় ইরফান শ্যুটিং সেটে আসতে পারতেন না। বেশ কয়েকবার শ্যুটিং বাতিল করতেও বাধ্য হন নির্মাতারা।
স্মৃতির ভাষ্যে, ইরফান প্রায়ই আমাকে বলতেন ‘স্মৃতি, আমার খুব ঠান্ডা লাগে।’ তিনি লন্ডনের একটি ব্র্যান্ডের কথা বলেছিলেন শীতের কাপড়ের জন্য। পরে আমি সেখান থেকে তার জন্য উষ্ণ পোশাক এনে দিই।”
ইরফানের শারীরিক অবস্থা এতটাই নাজুক ছিল যে শ্যুটিং চলাকালীন তার পরিবারের সদস্যরা সবসময় তার পাশে থাকতেন। তীব্র কষ্টের মধ্যেও তিনি কাজ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি। বরং প্রতিটি দৃশ্যে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
স্মৃতি চৌহান বলেন, অভিনয়ই ছিল ইরফানের বেঁচে থাকার শক্তি। তিনি অভিনয়ের মধ্যেই নিজেকে খুঁজে পেতেন। শেষ পর্যন্ত সেটাই যেন তার জীবনের শেষ অধ্যায় হয়ে উঠল।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হন ইরফান খান। দীর্ঘ চিকিৎসা ও লড়াইয়ের পর ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর কিছুদিন আগেই মুক্তি পায় ‘আংরেজি মিডিয়াম’। হোমি আদাজানিয়া পরিচালিত এই ছবিতে ইরফানের সঙ্গে অভিনয় করেন রাধিকা মদন, কারিনা কাপুর, দীপক ডোব্রিয়াল ও রনভীর শৌরি। ছবিটি ২০১৭ সালের জনপ্রিয় ছবি ‘হিন্দি মিডিয়াম’-এর সিক্যুয়েল।
টেলিভিশন নাটকের মাধ্যমে অভিনয়জীবন শুরু করা ইরফান খান বড় পর্দায় প্রথম নজর কাড়েন মীরা নায়ার পরিচালিত অস্কার মনোনীত ছবি ‘সালাম বোম্বে’ (১৯৮৮)-এর মাধ্যমে। এরপর ২০০১ সালে আসিফ কাপাডিয়ার ‘দ্য ওয়ারিয়ার’ ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে তিনি চলচ্চিত্র অঙ্গনে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।
পরবর্তীতে ‘মকবুল’, ‘পিকু’, ‘দ্য লাঞ্চবক্স’, ‘হায়দার’-এর মতো ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের বহুমাত্রিক প্রতিভার প্রমাণ দেন তিনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ‘লাইফ অব পাই’, ‘দ্য অ্যামেজিং স্পাইডার-ম্যান’, ‘ইনফার্নো’সহ একাধিক ছবিতে কাজ করে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেন এই অভিনেতা।
ইরফান খান আজ নেই, তবে তার অভিনয়, নিষ্ঠা আর জীবনের প্রতি লড়াই দর্শকের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে।
জে আই