দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিলাসবহুল জীবন, চাকচিক্য আর মডেলিংয়ের দুনিয়া থেকে এখন কারাগারের চার দেয়ালে বন্দি ভারতের লখনউয়ের মডেল শ্রদ্ধা দুবে। ক্যাফে মালিক শিবা শর্মার মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর তার ঠিকানা এখন গোসাইগঞ্জ জেলা কারাগার। যেখানে ৪৫ জন নারী বন্দির সঙ্গে একই কুঠুরিতে কাটছে তার দিন-রাত। কারাগারে যাওয়ার পর থেকেই ঠিকমতো খাচ্ছেন না, কথা বলছেন কম—একসময় বিলাসিতায় অভ্যস্ত এই মডেলের জীবনে এখন নেমে এসেছে একেবারেই ভিন্ন বাস্তবতা।
গত ২০ অক্টোবর মহারাষ্ট্রের নাগপুর থেকে শ্রদ্ধা, তার বোন রশ্মি এবং তাদের গাড়িচালক আদিলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শিবা শর্মার মৃত্যুর ঘটনায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হলে তিনজনকে ১০ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
কারাগারে নেওয়ার পর প্রথমে তিনজনকে নিভৃতবাসে রাখা হয়। পরে তাদের নির্ধারিত কক্ষে স্থানান্তর করা হয়। শ্রদ্ধা ও তার বোন রশ্মিকে রাখা হয়েছে ৪৫ জন নারী বন্দির সঙ্গে। কারা সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই বোনের আচরণে উদ্বেগের ছাপ রয়েছে। তারা বেশির ভাগ সময় চুপচাপ বসে থাকছেন। মাঝেমধ্যে নিজেদের মধ্যে কথা বললেও অন্যদের সঙ্গে তেমন কথা বলছেন না।
কারাগারে প্রথম রাতেও স্বাভাবিক ছিলেন না শ্রদ্ধা। রাতে তাকে রুটি, ডাল, আলু-সয়াবিন ও মেথি শাকের তরকারি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি খাবার খেতে চাননি। অনেক রাত পর্যন্ত জেগে ছিলেন, ঘুমও হয়নি ঠিকমতো। ভোর ৬টার দিকে অন্য বন্দিদের মতো তাকেও ঘুম থেকে উঠতে হয়।
গ্রেপ্তারের পর থেকে শ্রদ্ধা ও রশ্মির সঙ্গে দেখা করতে পরিবারের কেউ কারাগারে আসেননি বলে জানিয়েছে কারা সূত্র। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন কারাগারের জেলর ঋত্বিক প্রিয়দর্শী।
এদিকে শিবা শর্মার মৃত্যুর পর শ্রদ্ধাদের পালিয়ে থাকতে সহায়তাকারীদের খুঁজছে পুলিশ। এ ঘটনায় শ্রদ্ধার প্রেমিক আমির শেখের নাম সামনে এসেছে। অভিযোগ, আমির ও তার সহযোগীরা শ্রদ্ধা, রশ্মি ও আদিলকে কানপুর, নাগপুর এমনকি নেপালেও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দেন। আমিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অন্য সহযোগীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপালে অবস্থানকালে পুলিশের নজরে আসার পর গ্রেপ্তার এড়াতে শ্রদ্ধারা আবার ভারতে ফিরে আসেন। পরে নাগপুরে আশ্রয় নেন। সেখান থেকেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ৯ অক্টোবর লখনউয়ের একটি আবাসনের চারতলা থেকে পড়ে মারা যান ক্যাফে মালিক শিবা শর্মা। ওই আবাসনেই তার সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকতেন শ্রদ্ধা। শিবার মৃত্যুর ঘটনায় শ্রদ্ধার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তবে সেই অভিযোগ অস্বীকার করে শ্রদ্ধার দাবি, শিবা আত্মহত্যা করেছেন।
কেএম