দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

একসময় চিত্রনায়িকা পরীমনির জন্মদিন মানেই ছিল জমকালো আয়োজন। পাঁচতারা হোটেলের ঝলমলে পরিবেশ, রঙিন থিম, বিশেষ পোশাক, কেক কাটা আর তারকাদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর হয়ে উঠত পুরো আয়োজন। তবে সেই জৌলুশে এখন ভাটা পড়েছে। ২০২৩ সালে প্রিয় নানাকে হারানোর পর থেকে আগের মতো করে আর জন্মদিন উদযাপন করেননি এই অভিনেত্রী।
এবারও বড় কোনো আয়োজনের পরিকল্পনা নেই পরীমনির। বরং কাছের মানুষদের নিয়ে ছোট পরিসরে একটি সন্ধ্যা কাটানোর কথা ভাবছেন তিনি।
১৯৯২ সালের ২৪ অক্টোবর সাতক্ষীরায় জন্ম পরীমনির। তার জন্মনাম শামসুন্নাহার স্মৃতি। পিরোজপুরের শঙ্করপাশা গ্রামে কেটেছে তার শৈশব। মাত্র তিন বছর বয়সে মাকে হারান তিনি। এরপর বাবা মনিরুল ইসলাম তাকে পিরোজপুরে নানাবাড়িতে রেখে আসেন। সেখানেই নানা শামসুল হক গাজীর স্নেহে বেড়ে ওঠেন অভিনেত্রী।
শৈশব থেকে জীবনের নানা পর্যায়ে নানাই ছিলেন পরীমনির সবচেয়ে কাছের মানুষ। ২০২৩ সালে সেই নানাকে হারানোর পর বদলে যায় তার জন্মদিন উদযাপনের অভ্যাস। বিশেষ দিনটিতে আগের মতো আয়োজন করার কথা আর ভাবতে পারেননি তিনি।
এ প্রসঙ্গে পরীমনি বলেন, ‘নানু ভাই যাওয়ার পরে আসলে আমি বার্থডে কখনো সেলিব্রেটই করি নাই। আমার মাথায় আসে নাই যে আমি নানু ভাইকে ছাড়া কেক কাটবো, সবাইকে নিয়ে হইচই করবো সেটা আমার মাথায় আসে নাই একদমই।’

তবে এবার জন্মদিনে কাছের মানুষদের নিয়ে কিছুটা সময় কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী। তার ভাষায়, ‘কিন্তু আমার মনে হয় একটু সবাই একসাথে একটা সন্ধ্যা... আপনারা যারা আছেন, আমার কাছের প্রিয় মানুষজন, তাদেরকে নিয়ে একটুখানি একটা সন্ধ্যা তো কাটাতেই পারি।’
নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বুলবুল একাডেমি অব ফাইন আর্টসে (বাফা) নাচ শিখতে ভর্তি হয়েছিলেন পরীমনি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচের পাশাপাশি টেলিভিশন নাটকে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। ‘সেকেন্ড ইনিংস’, ‘এক্সক্লুসিভ’ ও ‘এক্সট্রা ব্যাচেলর’সহ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেন। পরে ‘নারী ও নবনীতা তোমার জন্য’ নাটকে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান।
২০১৫ সালে চলচ্চিত্রে নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয় তার। নজরুল ইসলাম খানের পরিচালনায় ‘রানা প্লাজা’ সিনেমায় অভিনয় করলেও নানা জটিলতায় ছবিটির মুক্তি আটকে যায়। পরে শাহ আলম মণ্ডলের পরিচালনায় ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার।
রোমান্টিক চরিত্রে সহজ-সাবলীল অভিনয় দিয়ে দর্শকের নজর কাড়েন পরীমনি। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে একসঙ্গে প্রায় দুই ডজন সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। যদিও সেসব সিনেমার অনেকগুলো শেষ পর্যন্ত নির্মিত হয়নি, আবার কিছু নির্মিত হলেও মুক্তি পায়নি।
এরপর ধীরে ধীরে অভিনয়ে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেন পরীমনি। ‘রূপবান’ সিনেমায় গ্রামীণ তরুণীর চরিত্রে অভিনয় করে গ্ল্যামারের বাইরেও নিজের সংবেদনশীল অভিনয়ক্ষমতার পরিচয় দেন। গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘স্বপ্নজাল’ সিনেমায় রূপা চরিত্রে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়।
‘বিশ্বসুন্দরী’ সিনেমায় তৃষ্ণা এবং ‘গুণিন’-এ অভিনয়ের মধ্য দিয়ে নানা ধরনের চরিত্রে নিজেকে তুলে ধরেন তিনি। আর ‘মা’ সিনেমায় সন্তান হারানো এক মায়ের যন্ত্রণা, মাতৃত্ব ও সংগ্রামের আবেগ ফুটিয়ে তুলে অভিনয়জীবনে যোগ করেন ভিন্ন এক অধ্যায়।
এমএম/