দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সম্পর্ক যত পুরনোই হোক, একে অপরের প্রতি ছোট ছোট যত্ন ও ভালোবাসার প্রকাশ বন্ধ করা উচিত নয় বলে মনে করেন অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা। তার মতে, বিয়ে বা সন্তান হওয়ার পরও সঙ্গীর প্রতি নিয়মিত যত্নশীল থাকা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
প্রথম দেখাতেই প্রেমে বিশ্বাস করেন না অভিনেতা বিজয় দেবরকোন্ডা। রাশমিকা মান্দানার সঙ্গে তার সম্পর্কও প্রথম দেখায় তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। সময়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব, বোঝাপড়া ও পরস্পরের প্রতি যত্ন থেকেই তাদের সম্পর্ক প্রেমে গড়িয়েছে।
সম্প্রতি প্রখর গুপ্তর সঙ্গে কথোপকথনে সম্পর্ক ও প্রেম নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন বিজয় ও রাশমিকা। সেখানে দীর্ঘ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে প্রতিদিনের ছোট ছোট যত্নের গুরুত্ব তুলে ধরেন রাশমিকা।
প্রথম দেখাতেই রাশমিকাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বুঝতে পেরেছিলেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বিজয় জানান, প্রথম দেখায় এমন কিছু বোঝা সম্ভব নয়। তার মতে, প্রথম দেখায় কাউকে সুন্দর লাগতেই পারে, কিন্তু সেই মানুষটিই জীবনের বিশেষ কেউ কি না, তা বুঝতে সময় লাগে।
রাশমিকার সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার সময়ও বিজয়ের মনে হয়েছিল, মেয়েটি খুব সুন্দর। তবে তখন দুজনই শুটিংয়ের প্রথম দিনের ব্যস্ততা, নতুন দলের সঙ্গে কাজ এবং ভালো কিছু করার প্রত্যাশায় ছিলেন। বিজয়ের ভাষায়, প্রথম দিন কোনো সেটেই নার্ভাস লাগে। সেই অবস্থায় প্রেম বা এ ধরনের বিষয় নিয়ে ভাবার মতো স্বচ্ছন্দ পরিস্থিতি থাকে না।
প্রথম দেখা নিয়ে অবশ্য বিজয়ের হিসাব একটু ভুল ছিল। তিনি বলেছিলেন, রাশমিকার সঙ্গে তার পরিচয়ের প্রায় আট বছর হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে রাশমিকা তাকে সংশোধন করে জানান, তাদের দেখা হওয়ার নয় বছর হয়ে গেছে। তবে তাদের প্রথম সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছিল আট বছর আগে। এ নিয়ে মজা করে বিজয় বলেন, সিনেমা মুক্তির সময়কেই তিনি রাশমিকাকে চেনার সময়ের হিসাবের মার্কার হিসেবে ধরে রেখেছেন।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রেম সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গিও বদলেছে বলে জানান বিজয়। ২৮ থেকে ২৯ বছর বয়সে তিনি প্রেমকে খুব একটা গুরুত্ব দিতেন না। একসময় প্রেমকে মার্কেটিং টার্ম বলেও মনে করতেন। তবে সময়ের সঙ্গে তিনি বুঝেছেন, ভালোবাসার এমন একটি দিক আছে, যেখানে একজন মানুষ নিজের চেয়েও অন্য কারও কথা বেশি ভাবতে পারে। এই উপলব্ধির জন্য তাকে পরিণত হতে হয়েছে বলেও জানান অভিনেতা।
বিজয়ের মতে, জীবনের ভালোবাসাকে অসম্মান না করে সেটিকে সম্মান করা, উপলব্ধি করা এবং যত্ন নেওয়া উচিত। ৩৬ বছর বয়সে এসে প্রথমবার তার মনে হয়েছে, তিনি বিয়ের জন্য প্রস্তুত। তার ভাষায়, তখন মনে হয়েছিল তিনি পরিণত হয়েছেন এবং ভালোবাসাকে বোঝার মতো জায়গায় পৌঁছেছেন। বিজয়ের এই বক্তব্য শুনে রাশমিকা মজা করে বলেন, ‘বেবি, তুমি দেরি করে ফেলেছিলে।’
সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য বড় কোনো বিষয় নয়, প্রতিদিনের ছোট ছোট যত্নকেই বেশি গুরুত্ব দেন রাশমিকা। তার মতে, কাছের মানুষদের জন্য আমরা অনেক সময় চেষ্টা করলেও নিজের সঙ্গীর ক্ষেত্রেই ধীরে ধীরে সেই চেষ্টা কমে যায়।
রাশমিকা বলেন, ভালোবাসার মানুষদের জন্য সবসময় চেষ্টা করে যেতে হয়। কিন্তু অনেক সময় নিজের ঘরের মানুষের চেয়ে বাইরের মানুষদের জন্যই বেশি চেষ্টা করা হয়। বিয়ের পর একে অপরকে ‘কেমন আছ’ বা ‘দিনটা কেমন গেল’ এর মতো সাধারণ কথাগুলো বলা বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেও মনে করেন তিনি। তখন মনে হয়, সঙ্গী তো জানেই, তাই আলাদা করে এসব বলার প্রয়োজন নেই।
কিন্তু রাশমিকার মতে, একসময় সেই মানুষটির মনে প্রশ্ন আসতে পারে, কেন আগের মতো এসব কথা আর বলা হচ্ছে না। তাই বিয়ে হয়ে যাওয়া বা সন্তান হওয়ার পরও একে অপরের প্রতি ছোট ছোট যত্ন বন্ধ করা উচিত নয়। সম্পর্ক যত পুরনোই হোক, সঙ্গীর জন্য নিয়মিত এমন ছোট চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াকেই তিনি ভালোবাসার অংশ মনে করেন।
রাশমিকার এই ভাবনার প্রশংসা করে বিজয় বলেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার প্রেমিকা অনেক বেশি পরিণত। অভিনেতার দাবি, রাশমিকা তাকে দিনে অন্তত ১০ থেকে ১৫ বার এই কথা বলেন এবং একই সঙ্গে তাকেও নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে মনে করিয়ে দেন। বিজয় বলেন, তিনি হয়তো অনুভব করেন যে রাশমিকা বিষয়টি জানেন, তাই আলাদা করে বলার প্রয়োজন নেই। কিন্তু রাশমিকা তাকে মনে করিয়ে দেন, ভালোবাসার কথা মুখে বলাও গুরুত্বপূর্ণ।
বাস্তব জীবনের পাশাপাশি পর্দাতেও আবার একসঙ্গে দেখা যাবে বিজয় ও রাশমিকাকে। তাদের অভিনীত পিরিয়ড অ্যাকশন ড্রামা ‘রণবালি’ পরিচালনা করেছেন রাহুল সাংকৃত্যায়ন। মৈত্রী মুভি মেকার্সের প্রযোজনায় সিনেমাটি ১৬ অক্টোবর ২০২৬ বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
এমএম/