দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ক্যামেরা চললে দুজনের মধ্যে কোনো দূরত্ব বোঝার উপায় ছিল না। সংলাপ, অভিনয়, দৃশ্যের আবেগ, সবই ঠিকঠাক। অথচ ক্যামেরার বাইরে একে অন্যের সঙ্গে একটি কথাও বলতেন না কমল হাসান ও রতি অগ্নিহোত্রী। এমনকি শুটিংয়ের পুরো সময় একবারও একে অপরকে ‘হাই’ বা ‘হ্যালো’ বলেননি তারা।
১৯৮৫ সালের সিনেমা ‘দেখা পেয়ার তুমহারা’র শুটিংয়ের এমনই এক ঘটনা সামনে এনেছেন প্রবীণ লেখক রণবীর পুষ্প। সিদ্ধার্থ কাননের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় তিনি জানান, সিনেমাটির নায়িকা হিসেবে রতিকে নেওয়ার সিদ্ধান্তে শুরু থেকেই আপত্তি ছিল কমল হাসানের।
রণবীর পুষ্পের ভাষ্য, সিনেমাটির অভিনয়শিল্পীদের বাছাই যখন চলছিল, তখন কমল হাসান চেয়েছিলেন পুনম ধিলনকে নায়িকা হিসেবে নিতে। কিন্তু প্রযোজক রণবীরের পছন্দ ছিল রতি অগ্নিহোত্রী। শেষ পর্যন্ত তিনি রতির বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। রতির বাবা তখন তার ক্যারিয়ার দেখভালের পাশাপাশি সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। তার মাধ্যমেই রতিকে সিনেমাটিতে চূড়ান্ত করা হয়।
বিষয়টি জানার পর কমল হাসান খুশি হননি। তবে এ নিয়ে তিনি কোনো দৃশ্যও তৈরি করেননি বলে জানান রণবীর। তার কথায়, কমল ছিলেন বেশ শান্ত ও মাটির কাছাকাছি থাকা মানুষ। তাই আপত্তি থাকলেও সেটি প্রকাশ্যে বড় কোনো বিরোধে রূপ দেননি।
তবে সেই অস্বস্তির প্রভাব দেখা যায় শুটিংয়ে। কয়েক দিন পরই নির্মাণ দলের সদস্যরা জানতে পারেন, কমল হাসান ও রতি অগ্নিহোত্রী একে অপরের সঙ্গে কথা বলছেন না। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কীভাবে সিনেমার কাজ এগোবে?
কিন্তু বাস্তবে কাজ থেমে থাকেনি। দুজনই পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিজেদের অভিনয় করে গেছেন। শুটিংয়ের পুরো সময় তাদের মধ্যে কোনো কথাবার্তা হয়নি। অথচ সিনেমাটি দেখলে দর্শকের পক্ষে বোঝার উপায় নেই যে পর্দার বাইরের সম্পর্ক এতটাই নীরব ছিল।
রণবীর পুষ্প বলেন, শুটিংয়ের সময় তারা একবারও একে অপরকে ‘হাই’ বা ‘হ্যালো’ বলেননি। তবু পুরো সিনেমার কাজ শেষ করেছেন। পর্দায় তাদের অভিনয়ে সেই দূরত্বের কোনো ছাপও দেখা যায়নি।
একই আলাপচারিতায় কমল হাসানের ব্যক্তিজীবনের একটি অধ্যায় নিয়েও কথা বলেন রণবীর পুষ্প। তার দাবি, ওই সময় কমল হাসান বিবাহিত ছিলেন বাণী গণপতির সঙ্গে। তাদের দাম্পত্য প্রায় এক দশক স্থায়ী হওয়ার পর বিচ্ছেদ হয়।
রণবীরের ভাষ্য অনুযায়ী, বাণী গণপতির সঙ্গে দাম্পত্য চলাকালেই সারিকার সঙ্গে কমল হাসানের সম্পর্কের শুরু। শুরুতে বিষয়টি অনেকটাই গোপন রাখা হয়েছিল।
১৯৮৪ সালে কমল হাসান ও সারিকা প্রথমবার একসঙ্গে সিনেমায় অভিনয় করেন। রণবীর পুষ্পের দাবি, সে সময়ই শুটিং সেটে থাকা অনেকেই তাদের সম্পর্কের আভাস পেয়েছিলেন। কারণ দুজনকে প্রায়ই একসঙ্গে নিরিবিলি কোনো এক কোণে বসে থাকতে দেখা যেত।
এভাবেই সিনেমার সেটে একদিকে কমল হাসান ও রতি অগ্নিহোত্রীর নীরব দূরত্ব, অন্যদিকে সারিকার সঙ্গে কমল হাসানের নতুন সম্পর্কের সূচনা, একই সময়ের দুটি ভিন্ন অধ্যায়ের কথা তুলে ধরেছেন রণবীর পুষ্প।
/অ