দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার দীর্ঘ ৮ মাস কেটে গেলেও এখনো চাকরিতে যোগদান করতে পারেননি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী।
দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও দফায় দফায় আন্দোলনের মুখে অবশেষে তাদের যোগদান ও পদায়নের তারিখ ঘোষণা করা হলেও, তাদের জন্য নির্ধারিত বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম ধোঁয়াশা।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নবনিযুক্ত সহকারী শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের পুরো বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এখনো নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
কর্মকর্তারা আরও জানান, এবার নতুন সহকারী শিক্ষকদের জন্য যে প্রশিক্ষণ পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ নতুন এবং একটি বিশেষ প্রক্রিয়াসম্পন্ন। তবে কোন প্রক্রিয়ায় বা কীভাবে নতুন এই শিক্ষকদের দুই মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হবে, সে বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তরগুলোর কাছে কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। ফলে যোগদানের তারিখ ঘোষণা হলেও প্রশিক্ষণ শুরুর বিষয়টি এখনো সম্পূর্ণ অনিশ্চিত ও ধোঁয়াশাপূর্ণ রয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কর্মকর্তারা সবাই এ নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এখনো কোনো নির্দেশনা নেই বলে জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এবার নতুন সহকারী শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ পদ্ধতিটি সম্পূর্ণ নতুন। বিশেষ পদ্ধতি বলা চলে। কোন প্রক্রিয়ায় নতুন এসব সহকারী শিক্ষকের দুই মাসের প্রশিক্ষণ হবে, তা নিয়ে সবাই ধোঁয়াশার মধ্যে।
অক্টোবরের শুরুতে যোগদান-পদায়ন: সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষকের যোগদান ও পদায়নের তারিখ ঘোষণা করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১ অক্টোবর স্ব স্ব জেলায় নতুন এ শিক্ষকরা যোগদান করবেন। ৪ অক্টোবর তাদের প্রত্যেককে কর্মস্থলে পদায়ন করা হবে।
প্রশিক্ষণের আগে নতুন শিক্ষকরা ক্লাসে নয়: যোগদান ও পদায়নের তারিখ নির্ধারণ হলেও প্রশিক্ষণ কবে শুরু, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে পদায়ন হলেও প্রশিক্ষণের আগে নতুন শিক্ষকদের ক্লাসে পাঠানো হবে না। অবশ্যই তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ক্লাসে পাঠানো হবে।
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ বলেন, প্রশিক্ষণ চাকরির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পদায়নের সঙ্গে সঙ্গে তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হওয়া উচিত। দুই মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে তারা স্কুলে ক্লাস নিতে পারবেন। তার আগে তাদের ক্লাসে পাঠানো হবে না, এটা উচিতও হবে না।
বিশেষ প্রশিক্ষণ ঘিরে যত ধোঁয়াশা: প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের পদায়নের পর সাধারণত ১০ মাসের নিয়মিত প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। তবে এবার সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দুই মাসের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ফলে এ প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ বিশেষ পদ্ধতিতে হবে।
জানতে চাইলে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, প্রশিক্ষণ কবে শুরু হবে, সেটা আমাদের জানানো হয়নি। তবে আমরা শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরি করেছি। এটি চূড়ান্ত করবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। চূড়ান্ত হলেই সে অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন শুরু হবে।
একই কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আগে তো ১০ মাসের প্রশিক্ষণ হতো। এবার এটা দুই মাসের হবে। দুই মাসের এ প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা আমাদের জানানো হয়েছে। তবে কবে থেকে এটি শুরু হবে, তা আমরা জানতে পারিনি। এটা মন্ত্রণালয় ঠিক করবে।
প্রশিক্ষণ আবাসিক নাকি অনাবাসিক: প্রাথমিকের নতুন সহকারী শিক্ষকদের পদায়নের পর যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, সেটি আবাসিক নাকি অনাবাসিক, তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। পাশাপাশি এতসংখ্যক শিক্ষককে একসঙ্গে প্রশিক্ষণ দেওয়ার অবকাঠামোগত সক্ষমতা নেপ’র আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
নেপ মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ বলেন, প্রশিক্ষণটি আবাসিক নাকি অনাবাসিক হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রয়োজনে ডাবল শিফটে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হবে।
প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ না হলে: অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষকের নিয়োগ পরীক্ষা কিছুটা তড়িঘড়ি নেওয়া হয়। বিএনপি সরকার এসে এ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। খোদ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন অনেক ব্রিফিং ও অনুষ্ঠানে এ নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও তাড়াহুড়ো নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। পরে সুপারিশপ্রাপ্তদের যোগদান করানোর শর্ত হিসাবে প্রশিক্ষণে পাস করার কথাও বলেন মন্ত্রী। তবে এখন সেই কঠোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রশিক্ষণের মূল্যায়ন থেকে কাউকে বাদ দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।
বিষয়টি নিয়ে প্রশিক্ষণের মডিউল তৈরি করা নেপ মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ না হতে পারলে কারও নিয়োগ বাতিল হবে বলে আমি মনে করি না। তবে এরকম কোনো সিদ্ধান্ত প্রশিক্ষণ মডিউলে যুক্ত করা হবে কি না, তা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলতে পারবে।’
সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত সোমবার: প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজারেরও বেশি শিক্ষকের যোগদান, পদায়ন, বিশেষ প্রশিক্ষণ, প্রশিক্ষণের মূল্যায়নসহ সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে আগামী সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর)। এদিন সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে বৈঠক রয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীন ফেরদৌসী ও জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ জানান, যেসব বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি, সেগুলো নিয়ে ৭ সেপ্টেম্বর আলোচনা হবে। মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এ সভায় থাকবেন। তাদের বিষয়গুলো অবগত করার পর যে সিদ্ধান্ত হবে, সে মোতাবেক সুপারিশপ্রাপ্তদের যোগদান, পদায়ন, বিশেষ প্রশিক্ষণ ও প্রশিক্ষণের মূল্যায়ন করা হবে।
কে