দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগে আগের পদ্ধতি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফলে শিক্ষক নিবন্ধনে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে সনদ অর্জনের পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশও করবে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। একই সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে আগের বিতর্কিত রেজুলেশন বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। এতে এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান আলিফ রুদাবা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব হেলালুজ্জামান সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় অংশ নেওয়া মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, শিক্ষক নিবন্ধন ও নিয়োগ পরীক্ষা আগের নিয়মেই নেওয়া হবে। এর আগে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে। শিগগির এ বিষয়ে পরিপত্র জারি করা হবে।
এর আগে গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, এনটিআরসিএ আর এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করতে পারবে না।
ওই সভার কার্যবিবরণী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছিল, ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫ অনুযায়ী এখন থেকে এনটিআরসিএ কেবল নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজ করবে। ২০১৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী আর নিয়োগের সুপারিশ করবে না।’
এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছিল, ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৯ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থী নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বউদ্যোগে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ পাবেন।
ওই সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমে প্রকাশের পর ঢাকা, জগন্নাথ, রাজশাহী ও চট্টগ্রামসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনও সিদ্ধান্তটির বিরোধিতা করে।
এ ছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংগঠন এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটও সারা দেশে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশাজীবী এ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান।
পরে শিক্ষামন্ত্রী এক বিবৃতিতে জানান, সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও রেজুলেশন হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের পর মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।
তবে শেষ পর্যন্ত আগের রেজুলেশন বাতিল করে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা ও এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগের সুপারিশের পদ্ধতিই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এমএম/