দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শূন্য পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমপিওর সব সুবিধা নেবে অথচ একজন শিক্ষার্থীও পাস করবে না, তা হতে দেওয়া যায় না।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যত্রতত্র আর কোনো নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি দেওয়া হবে না। বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুণগত মান বাড়াতেই এখন কাজ করা হচ্ছে। ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কাজে নেমেছি। শিক্ষাব্যবস্থার ভঙ্গুর অবস্থাকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। গত ২০ বছরে আমরা পেছনের দিকে গিয়েছি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে (বার্ক) ‘সমৃদ্ধ অর্থনীতি বিনির্মানে শিক্ষা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সম্প্রতি প্রকাশিত ফলাফলের প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জোর করে কাউকে যেমন পাস করানো যায় না, তেমনি জোর করে ফেলও করানো যায় না। যারা এবার ভালো করতে পারেনি, তার দায় শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, এই দায় তিনি নিজের কাঁধেও নিচ্ছেন বলে জানান।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার কোথায় ‘ডিফেক্ট’ বা ত্রুটি রয়েছে, প্রকৃত মান কেমন এবং সঠিক উপাত্ত কী—তা নিরপেক্ষভাবে খুঁজে বের করতে হবে।
শিক্ষক সঙ্কট ও আইনি জটিলতার চিত্র তুলে ধরে মিলন বলেন, মানসম্মত শিক্ষকের তীব্র অভাব রয়েছে। ২০১৭ সালে ৩২ হাজার শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিরো, যা তিনি নিষ্পত্তি করার পরেও আবার আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। এছাড়া ১৪ হাজার ৩০০ শিক্ষকের এখনো পদায়ন হয়নি।
চলতি ডিসেম্বরের মধ্যেও পর্যাপ্ত শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, শিক্ষক সঙ্কট রেখে আগামী পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফলের আশা কীভাবে করা যায়?
এনটিআরসিএ সম্পর্কিত সাম্প্রতিক কিছু খবরের ব্যাখ্যা দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বিষয়টি নিয়ে কেবল আলোচনা হয়েছিলো, কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনার ভেতরের তথ্য আংশিক কেটে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করায় অহেতুক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এছাড়া শিক্ষক প্রতিনিধিদের ঘন ঘন মামলা করার মানসিকতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, একটু কিছু হলেই মামলা করা হয়, যার ফলে নিয়োগ আটকে গিয়ে পুরো শিক্ষাব্যবস্থা থমকে যায়।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, শূন্য পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমপিওর সব সুবিধা নেবে অথচ একজন শিক্ষার্থীও পাস করবে না, তা হতে দেওয়া যায় না। একই সঙ্গে যত্রতত্র আর কোনো নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুণগত মান বাড়াতেই এখন কাজ করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই পাঁচ মাসের নতুন সরকারের বিরুদ্ধে ঘন ঘন আন্দোলন করা সমীচীন নয়। বিনা কারণে হৈচৈ করে অস্থিরতা সৃষ্টি না করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বলবো, যেকোনো আন্দোলন করার আগে আমার সঙ্গে বসুন, কথা বলুন।
কে