দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আজ সোমবার সকাল ১০টায় সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করেন । সংবাদ সম্মেলনে আন্ত:শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ বছর দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্র ৫ লাখ ৩০ হাজার ৯৩৮ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৭ হাজার ৯৩৯ জন।
২০২৬ সালের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। অন্যদিকে, গত বছর (২০২৫ সাল) পাসের হার ছিল ৬৮.৪৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় এ বছর পাসের হার এবং জিপিএ-৫ উভয়েই কমেছে।
৯টি সাধারণ বোর্ডের ফলাফলের চিত্র: প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৪ লাখ ৪ হাজার ৫৩৯জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ৮ লাখ ৯৯ হাজার ৬১০জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্র ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৮১৪ জন এবং ছাত্রী ৫ লাখ ৩ হাজার ৭৯৬জন। পাসের হার ৬৪.০৫ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন।
মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের চিত্র : প্রকাশিত ফলাফলে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষায় ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৭৯৭ জন। এ বোর্ডে পাসের হার ৫৫.৪৯ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৭১৬ জন।
অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৪ হাজার ৪৭০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এ বোর্ডে পাসের হার ৫৮.২০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৯৫১ জন।
বোর্ডভিত্তিক পাসের হার ও জিপিএ-৫: পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বোর্ডভিত্তিক পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৭১.৬৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩ হাজার ২৫৩ জন।
অন্যান্য বোর্ডের মধ্যে রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৬৩.৬৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২ হাজার ৩২৭ জন, যশোর বোর্ডে পাসের হার ৬৬.২৭ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৪৭৮ জন। সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৫৮.৩৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৮৩৬ জন। দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৫৮.০৫ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৬৩৯ জন। চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫৯.৪৮ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন। বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৬০.৩৫ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৭৭৮ জন। ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫৭.৩৯ শতাংশ এবং জিপিএ ৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৭০০ জন। কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৬৫.৪২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৮১৪ জন।
গ্রুপভিত্তিক উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থী ও পাসের হার: সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর গ্রুপভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পাস করেছে। বিজ্ঞান বিভাগে মোট উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থী ৪ লাখ ৫৭ হাজার ১৮৮ জন, পাসের হার ৮০.৬৪ শতাংশ। আর মানবিক বিভাগে মোট উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থী ৩ লাখ ১ হাজার ১৭৪ জন, পাসের হার ৪৮.৭৪ শতাংশ। অন্যদিকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে মোট উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৪১ হাজার ২৪৮ জন, পাসের হার ৬৪.২৯%।
বেলা ১০টা থেকে একযোগে দেশের সকল শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেকসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানগণ।
এর আগে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, সোমবার সকাল ১০টায় একযোগে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে, নিজ নিজ বোর্ডের ফল পাওয়া যাবে। এছাড়া দুটি অভিন্ন ওয়েবসাইট—eduboardresult.gov.bd ও educationboardresults.gov.bd—থেকেও ফল জানা যাবে। পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও ফল সংগ্রহ করতে পারবেন।
মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমেও ফল জানা যাবে। এ জন্য মেসেজ অপশনে গিয়ে প্রথমে ‘SSC’ লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, এরপর স্পেস দিয়ে রোল নম্বর এবং আরেকটি স্পেস দিয়ে পরীক্ষার বছর লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে পরীক্ষার ফল জানিয়ে দেওয়া হবে। প্রতিটি এসএমএসের জন্য ১ টাকা ৩৯ পয়সা চার্জ প্রযোজ্য হবে। এই চার্জের মধ্যে সব ধরনের কর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের জন্য এসএমএসের ফরম্যাট হবে ‘SSC DHA ROLL YEAR’। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ‘SSC MAD ROLL YEAR’ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ‘SSC TEC ROLL YEAR’ লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। ১৬২২২ নম্বরেও এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানা যাবে।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফলও আজ সকাল ১০টায় স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান ও অনলাইনে একযোগে প্রকাশ করা হবে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটের Result কর্নারে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান কোড ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক Result Sheet ডাউনলোড করা যাবে।
এছাড়া result.bteb.gov.bd, educationboardresults.gov.bd ও eduboardresult.gov.bd ওয়েবসাইটে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে গ্রেডভিত্তিক Transcript পাওয়া যাবে।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, দাখিল পরীক্ষার ফলও আজ (সোমবার) সকাল ১০টায় প্রকাশ করা হবে। বোর্ডের ওয়েবসাইট bmeb.gov.bd-এর ‘অনলাইন সেবা-০১’ কর্নারে গিয়ে ‘দাখিল পরীক্ষা ২০২৬’–এ ক্লিক করেও ফল জানা যাবে। এছাড়া ebmeb.gov.bd ওয়েবসাইটে ‘DakhileRPS 2026’ নির্বাচন করে ‘Continue’ বাটনে ক্লিক করলে জেলার কেন্দ্রভিত্তিক মাদ্রাসার Result Sheet ডাউনলোড করা যাবে।
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছে। এর মধ্যে সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি পরীক্ষায় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষায় ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছে।
এবার এসএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়েছিল গত ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। আর দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার লিখিত অংশ শেষ হয় ২৪ মে। সাধারণত লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হয়। সে হিসাবে গত ২০ জুলাই ফল প্রকাশের কথা থাকলেও এবার নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ পর ফল প্রকাশ করা হচ্ছে।
ফল প্রকাশের পর ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য অনলাইনে আবেদন করা যাবে। পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।
শিক্ষা বোর্ডগুলো জানিয়েছে, ফলাফল জানতে পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত অনলাইন মাধ্যম, এসএমএস অথবা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
কে