দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও মেধা নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ ও সীড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটে নতুন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এবারই প্রথম লিখিত পরীক্ষা, ডেমো ক্লাস এবং মৌখিক পরীক্ষার সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। ইতোপূর্বে কেবল মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের রীতি থাকলেও, বর্তমান প্রশাসন সেই ধারা ভেঙে মেধাবীদের মূল্যায়নে তিন স্তরের এই কঠোর প্রক্রিয়া চালু করেছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যায় থেকে সুপারিশ আসে ফলে মেধাবী প্রার্থী বাদ পড়ার আশঙ্কা থাকে। জুলাই আন্দোলনের পর আমি দায়িত্ব নিয়েই প্রত্যয় করি শিক্ষক নিয়োগে বিভিন্ন ধরনের সুপারিশ এড়িয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীরা যেন নিয়োগ পায়।
উপাচার্য জানান, ইতোপূর্বে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধুমাত্র মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু এই প্রথম লিখিত পরীক্ষা নিয়ে প্রতি পদের বিপরীতে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত ৫ জন প্রার্থীকে ডেমো ক্লাস ও মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচন করা হয়। তারপর তাদের ডেমো ক্লাস এবং মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হয়। প্রার্থীদের পারফরম্যান্সের উপর ভিত্তি করে বাছাই বোর্ডের প্রত্যেক সদস্য আলাদা আলাদা নম্বর প্রদান করেন। প্রার্থীদের এসএসসি, এইচএসসি, অনার্স, মাস্টার্সের প্রাপ্ত সিজিপিএ, লিখিত পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর এবং ডেমো ক্লাস ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর যোগ করে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
বাছাই বোর্ডের অন্যতম সদস্য প্রোভিসি অধ্যাপক ড. বেলাল হোসেন বলেন, ‘বিভিন্ন ক্রাইটেরিয়ার ওপর ভিত্তি করে এবং সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’
বাছাই বোর্ডের আরও একজন সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক মো. আবুল বাশার বলেন, ‘এবার অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষক নিয়োগে এই নিয়ম অনুসরণ করা উচিত।’
এই ধারা অব্যাহত থাকলে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের জন্য মেধাবী কৃষিবিদ তৈরি করবে, যা কৃষিপ্রধান বাংলাদেশকে আধুনিক বিশ্বায়নের যুগে এগিয়ে নেবে বলে আশা সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্র সংগঠনগুলোর।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগের বিষয়ে কয়েকজনের অভিযোগ রয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা এবং মামলার আসামি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পেয়েছে। এ বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ভাইভাতে কাউকে রাজনৈতিক পরিচয় জিজ্ঞেস সম্ভব নয়। ছাত্রলীগের পদধারী কাউকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও সত্য নয়। আর মামলার আসামি নিয়োগের তো প্রশ্নই ওঠে না। কারণ সরকারি নিয়মানুযায়ী চাকরির ভেরিফিকেশনের পর তার নিয়োগ বাতিল হবে।