দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র ও কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বহিরাগতদের কান ধরে উঠবস করানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় শোকজের জবাব দিয়েছেন ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমা।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠে কয়েকজন বহিরাগতকে যাদের মধ্যে শিশুকিশোরের সংখ্যাই বেশি কান ধরে উঠবস করাচ্ছেন সর্বমিত্র চাকমা। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তোলেন, শিশু নির্যাতনের মতো ঘটনায় একজন ডাকসু সদস্য কীভাবে প্রক্টরিয়াল ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন।
ঘটনার পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সাইফুদ্দীন আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি প্রশাসনের আগে অবগত ছিল না। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমাকে শোকজ করার সিদ্ধান্ত নেন।
যদিও শোকজের আনুষ্ঠানিক জবাব সঙ্গে সঙ্গে দেননি সর্বমিত্র চাকমা, তবে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়ে ঘটনার ব্যাখ্যা ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ওই পোস্টে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত। দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বহিরাগতদের কারণে নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি, মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ঘটনাও ঘটেছে।
সর্বমিত্র আরও অভিযোগ করেন, এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশাসনকে জানালেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র এখনো সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি এবং বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে দৃশ্যমান পদক্ষেপও নেই। এই প্রশাসনিক ব্যর্থতার মধ্যেই পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে তিনি এমন আচরণে বাধ্য হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
তবে তিনি স্পষ্টভাবে স্বীকার করেন, এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া তার উচিত হয়নি এবং এই ঘটনার জন্য তিনি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) শোকজের জবাব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রক্টর ড. সাইফুদ্দীন আহমেদ জানান, সর্বমিত্র চাকমা শোকজের জবাব দিয়েছেন। উত্তরের বিস্তারিত সম্পর্কে তিনি বলেন, উত্তরটা অনেকটা ওর দেওয়া ফেসবুক পোস্টের মতোই অ্যাপোলজেটিক্যাল।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ (ল বডি) এবং ইউনিসেফ শিশু অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
জে আই