দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ১৯তম প্রয়াণ দিবস পালিত হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলা ভবন থেকে একটি স্মরণ যাত্রা বের করা হয়। স্মরণ যাত্রাটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের সমাধি প্রাঙ্গণে গিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শেষ হয়।
এসময় নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফাহমিদা আক্তার বলেন, হাজার বছরের বাংলা নাট্যধারার ভেতর সেলিম আল দীন শিল্পের মূল সূত্রের সন্ধান করেছেন। একই সঙ্গে শিল্প সৃজনের পথে তিনি নিরন্তর ভেঙেছেন প্রচলিত আঙ্গিকের অবয়ব। এই ভাঙা-গড়ার মধ্য দিয়েই তাঁর নাটকে মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায় উঠে এসেছে এই জনপদের জীবন।
তিনি আরও বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ এই নিরীক্ষাধর্মী ও শেকড়মুখী নাট্যকারকে তাঁর ১৯তম প্রয়াণ দিবসে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে। তাঁর অবর্তমানেও তাঁর সৃষ্টি ও শিল্পচিন্তা আমাদের নিরন্তর প্রেরণার উৎস।
সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে ঢাকা থিয়েটার, গ্রাম থিয়েটার, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র, অফিসার সমিতি, আরশিনগর, স্বপ্নদল থিয়েটার, শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্র, পুতুল নাট্য গবেষণা কেন্দ্র, অন্বিতা–সেলিম আল দীন বিদ্যাপীঠ, কাকতাড়ুয়া পাপেট, বুনন থিয়েটার, শহীদ টিটু থিয়েটারসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পী ও কলাকুশলীরা।
পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে পুরাতন কলা ভবনে ‘সেলিম আল দীন ও বাংলা নাট্যের বিঔপনিবেশিক আত্মপরিচয়’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রবন্ধ পাঠ করেন নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একই বিভাগের অধ্যাপক ড. ইফসুফ হাসান অর্ক এবং দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ নিজার।
উল্লেখ, নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট তৎকালীন বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার (বর্তমান ফেনী) সোনাগাজীতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৪ সালে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। তার উদ্যোগ ও নেতৃত্বে ১৯৮৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি বিভাগটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
জে আই