দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভকে শিক্ষার্থীরা আটক করেছে। আওয়ামীপন্থি এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী আন্দোলনে গণহত্যাকে সমর্থন এবং ফ্যাসিস্টদের দোসর হিসেবে কাজ করার অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে তিনি ক্যাম্পাসে এলে শিক্ষার্থীরা তাকে ধাওয়া দিয়ে আটক করে।
জানা গেছে, সহকারী অধ্যাপক হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভ ভর্তি পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি পৃথক তদন্ত চলছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চিঠির ভিত্তিতে তিনি ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করতে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হন। বিষয়টি জানতে পেরে চাকসু’র প্রতিনিধিরা তাকে আটক করতে এগিয়ে যান। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি আইন বিভাগের পেছনের একটি রাস্তা দিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। তদন্ত চলমান থাকা সত্ত্বেও ভর্তি পরীক্ষায় দায়িত্ব পেয়ে ক্যাম্পাসে আসলে শিক্ষার্থীরা তাকে প্রশ্ন করে, তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। পালাতে গিয়ে পড়ে গেলে শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে।
চাকসু’র আইন বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি তৌহিদ বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের গণহত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ রোমান শুভ’র বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ আমলে তিনি সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যুক্ত শিক্ষার্থীদের ‘‘জঙ্গি’’ আখ্যা দিয়ে মামলা করেন। আইন অনুষদের এক শিক্ষার্থী জুবায়েরের বিরুদ্ধে এমন মামলা করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষক ছাত্রলীগকে সরাসরি সহায়তা দিতেন এবং বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডে দিকনির্দেশনা দিতেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে আইন অনুষদের ১ নম্বর গ্যালারিতে ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় দায়িত্ব পালন করছিলেন রোমান শুভ। চাকসুর নেতারা অনুষদের ডিনের দপ্তরে এ ব্যাপারে আপত্তি জানাতে যান। এ সময় রোমান শুভ পরীক্ষার হল ত্যাগ করে চলে যেতে চাইলে চাকসুর নেতারা তাকে ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেটের সামনে তাকে আটক করে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিরোধিতা করে ফেসবুকে পোস্ট ও বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে রোমান শুভর বিরুদ্ধে তদন্ত করছে চবি প্রশাসন। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে, যার কার্যক্রম এখনো চলছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক হোসাইন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ মুহূর্তে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সিদ্ধান্ত হলে পরে জানানো হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী তার বেতন বন্ধ রয়েছে। কীভাবে তিনি পরীক্ষার দায়িত্ব পেলেন, তা আমি বলতে পারছি না।’
এবি/