দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে স্থানীয়রা। হামলার ঘটনায় ঈশা খাঁ হলের ৪ জন ও মাওলানা ভাসানী হলের ১ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর রাত ২টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা শেষ মোড়ে অবস্থান করে। এদিকে, স্থানীয়রা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালী মডেল থানার (ওসি) নাজমুস সাকিব।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঈশা খাঁ হলের শিক্ষার্থীরা শেষ মোড়ে খাবার খেতে গেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন- ঈশা খাঁ হলের পশুপালন অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সিয়াম, ভেটেরিনারি অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অন্তর ও ইমন, কৃষি অনুষদের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর। মাওলানা ভাসানী হলের কৃষি অর্থনীতি অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী প্রিয় আহত হন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে কয়েকজন বহিরাগত হল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীরা চোর সন্দেহে তাদের আটক করেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে হল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা ওই বহিরাগতদের ছেড়ে দেন। এরই জেরে রাত ১১টার দিকে শেষমোড় এলাকায় গেলে শিক্ষার্থীদের বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে বহিরাগতরা শিক্ষার্থীদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে।
একপর্যায়ে বহিরাগতদের লোহার পাইপের আঘাতে এক শিক্ষার্থীর মাথা ফেটে যায় এবং অন্য একজন শিক্ষার্থীর নাক ফেটে যায়। পরে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে ঈশা খাঁ হলসহ অন্যান্য হলের শিক্ষার্থীরা বের হয়ে আসেন। হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ার সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী বলেন, রাতের খাবার খেতে আমরা শেষমোড়ের দিকে যাচ্ছিলাম। হলের কাছাকাছি হওয়ায় প্রতিদিনের মতো খাবার খেতে গেলে কয়েকজন স্থানীয় আমাদের বাধা দেয়। কারণ জানতে চাইলে তারা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ইট ছোড়া শুরু করে। আমার দুইজন সিনিয়র ভাই সামনে এগিয়ে গেলে একজনকে লোহার পাইপ দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে সঙ্গে সঙ্গে তার মাথা ফেটে যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, কোতোয়ালি থানা থেকে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। যারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আমরা তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছি।
এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি নাজমুস সাকিব বলেন, ঘটনার পর রাত ২টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা শেষ মোড়ে অবস্থান করে। তবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে আরও বিস্তারিত বলা যাবে।
আরএ