দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. এস.এম. শফিকুল আলম চাকরি জীবনের দীর্ঘ ছুটিবিতর্কের পর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তার ২২ বছরের চাকরিজীবনের প্রায় ১২ বছরই কাটিয়েছেন নানা ধরনের ছুটিতে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের ২৯ জুন ১৭ দিনের অর্জিত ছুটি নেওয়ার মধ্য দিয়ে তার দীর্ঘ ছুটিযাত্রা শুরু হয়। এরপর ২০১০ সালের আগস্ট থেকে ২০১৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিনি সবেতনে পাঁচ বছর শিক্ষা ছুটিতে ছিলেন। সেই ছুটি শেষে ২০১৫ সালের আগস্ট থেকে ২০১৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তিনি বিনা বেতনে এক বছর দুই মাস ২৩ দিন অসাধারণ ছুটি নেন।
২০১৭ সালে আবারও চিকিৎসার জন্য ৬৪ দিনের অর্জিত ছুটি এবং পরে ৭৫ দিনের অর্ধগড় বেতনের ছুটি নেন তিনি। একই বছরের এপ্রিল-মে মাসে আরও ১৮ দিন চিকিৎসা ছুটি নেন। এরপর ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে পরের বছরের আগস্ট পর্যন্ত তিনি এক বছরের স্যাবাটিক্যাল ছুটি ভোগ করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি একসঙ্গে ৭৫ দিনের শ্রান্তিবিনোদন ছুটিও নেন।
সর্বশেষ ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত তিনি ২৬২ দিনের অর্জিত ছুটি নেন। পরে তার আবেদনে ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আরও ২০৮ দিনের অর্জিত ছুটি মঞ্জুর করা হয় এবং চিকিৎসার জন্য তাকে ফিনল্যান্ডে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে ছুটি শেষ হওয়ার পর ২০২৩ সালের ১ মার্চ তার কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি আর ফেরেননি।
সব মিলিয়ে তিনি অনুমোদিত ছুটি ভোগ করেছেন ৩৩০১ দিন, যা প্রায় ৯ বছরের সমান। এছাড়া অনুমোদন ছাড়া অনুপস্থিত আছেন ৯৭৪ দিন—প্রায় আড়াই বছরের মতো।
২০০৩ সালের ১১ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন তিনি। ২০০৬ সালে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান। পরে পিএইচডির জন্য তিনি ফিনল্যান্ডে যান এবং এরপর থেকেই সেখানেই থাকছেন বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সেল শাখার উপ-রেজিস্ট্রার এনামুল ইসলাম বলেন, অধ্যাপক শফিকুল আলম ২০২৩ সালের ১ মার্চ থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। পূর্বের প্রশাসনের অনুমোদনেই তার এত দীর্ঘ ছুটি ভোগ সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ইবির একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে একজন শিক্ষক শ্রেণিকক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দূরে থাকায় শিক্ষাকাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনুমোদন ছাড়া বিদেশে অবস্থান করলেও প্রশাসনের পদক্ষেপের ঘাটতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
অর্থ ও হিসাব শাখা জানায়, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে তার বেতন স্থগিত রয়েছে। তবে চাকরিবিধি লঙ্ঘন সত্ত্বেও প্রশাসনের কার্যকর ব্যবস্থা এখনো চোখে পড়েনি।
চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করলেও ১০ মাসেও তারা প্রতিবেদন জমা দেয়নি।
এমএস/