দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার দায়ে ৬৪ জন শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কার করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) প্রশাসন। বহিষ্কৃতরা সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
সোমবার (৪ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান সাংবাদিকদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
তিনি বলেন, হামলাকারী হিসেবে চিহ্নিত ২২৯ জনের মধ্যে ১৩০ জন বর্তমানে অধ্যয়নরত ও ৯৯ জন সাবেক শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে ৬৪ জনকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার, ৩৭ জনকে দুই বছরের জন্য, ৮ জনকে এক বছরের জন্য এবং ১ জনকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
এছাড়া, সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৭৩ জনের শিক্ষাসনদ স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে এবং অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী আরও ৬ জনের সনদ দুই বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান জানান, গত বছরের জুলাই-আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছাত্রলীগের হামলায় যুক্ত থাকা বহিরাগত সন্ত্রাসী ও পুলিশের কার্যকলাপ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইনের বাইরে ছিল। এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হবে।
হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ৪০ জন শিক্ষার্থীকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ২০ জন বর্তমান এবং ২০ জন সাবেক শিক্ষার্থী। কেন অব্যাহতি দেওয়া হলো এই প্রশ্নে উপাচার্য বলেন, তদন্ত কমিটি এ বিষয়ে যথাযথ ব্যাখ্যা দিয়েছে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রব জানান, অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরাসরি বা পরোক্ষ কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করেও তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি।
গত বছরের ১৪ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত ক্যাম্পাসজুড়ে চলা গণ-অভ্যুত্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে ছাত্রলীগ ও পুলিশের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার তদন্ত শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট এই সিদ্ধান্ত নেয়।
এফএইচ/