দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকায় দুই শিক্ষার্থীকে শিবির আখ্যা দিয়ে হল থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ এবং পরবর্তীতে হলে দেখা গেলে তাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ কর্মী জুলকারনাইন মাহিন।
এছাড়া আরও দুই শিক্ষার্থীকে তাদের ট্রাঙ্ক ফেলে দিতে এবং হল থেকে বের করার নির্দেশ দেন ছাত্রলীগ কর্মী জুলকারনাইন ও কৌশিক হাসান পরশ। বুধবার (১ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের মিনি গেস্টরুমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটান ছাত্রলীগ কর্মীরা।
অভিযুক্ত জুলকারনাইন মাহিন ও কৌশিক হাসান পরশ বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগের কর্মী। মাহিন ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্সুইরেন্স বিভাগের শিক্ষার্থী। অন্যদিক কৌশিক হাসান পরশ উর্দু বিভাগের। তারা দুজনেই ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী।
হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহমেদ ফয়সাল, সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিরুল ইসলাম সাকিব এবং গণযোগাযোগ ও উন্নয়ন বিষয়ক উপ-সম্পাদক সাকিবুল সুজন এই গ্রুপটি নিয়ন্ত্রণ করেন। তাদের নির্দেশেই মূলত গেস্টরুম হয়। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
স্ক্রিনশটে দেখা যায়, রাত সাড়ে ১১টার মধ্যে সবাইকে বাধ্যতামূলক মিনি গেস্টরুমে আসতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। গ্রুপের মোট শিক্ষার্থী ২১ জনের নামের তালিকা দেওয়া হয়। তবে মঙ্গলবার গেসরুমে ১১ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়। অভিযোগ উঠেছে, সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিরুল ইসলাম সাকিবের নির্দেশেই মাহিন ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে এই নির্দেশনা দিয়েছে।
অনুপস্থিত থাকায় আমাজাদ মিয়াজি এবং ইফতেখারুল হুদা মজুমদারকে গ্রুপে মেনশন করে জুলকারনাইন মাহিন লিখেন, আজ থেকে আপনাদের দায়িত্ব আর আমরা নিবো না। ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকায় আপনাদের শিবির হিসেবে ধরে নেওয়া হল। আজকের পর আপনাদের হলে দেখা গেলে পরিণতি খারাপ হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ১১টা ১৫ মিনিটে গ্রুপে ম্যাসেজ দেওয়া হয় সাড়ে ১১টার মধ্যে বাধ্যতামূলক মিনি গেস্টরুমে থাকতে হবে। তখন অনেকেই কাজে ব্যস্ত ছিল। ম্যানেজমেন্ট বিভাগের আমাদের ব্যাচমেট রিয়াজ উদ্দিন এবং রাহাতের ট্রাঙ্ক ফেলে দেওয়ার নির্দেশনা দেন জুলকারনাইন মাহিন ও কৌশিক হাসান পরশ ভাই। তাদের ট্রাঙ্কে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সার্টিফিকেট ছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের দ্বিতীয় বর্ষের এক কর্মী বলেন, আমি প্রথম বর্ষ থেকেই ছাত্রলীগের প্রোগ্রামে নিয়মিত। আমাদের তিন ক্যান্ডিডেট ভাইকে (ফয়সাল, সুজন, সাকিব) তখন থেকেই দেখে আসছি। ফয়সাল ভাই আর সুজন ভাইয়ের সুন্দর কথায় যারা প্রোগ্রামে যেতে আগ্রহী হয় তারাই সাকিব ভাইয়ের রূঢ় আচরণ দেখে প্রোগ্রামে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এই সাকিব ভাইয়ের খারাপ আচরণের কারণে তানভীর হাসান সৈকত ভাইয়ের বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগ অনেক কর্মী হারিয়েছে।
অভিযুক্ত জুলকারনাইন মাহিন বলেন, তারা দুজন গেস্টরুমে না আসায় ভয় দেখানোর জন্য আমি তাদেরকে শিবির বলেছিলাম। আমি স্বীকার করে নিচ্ছি এমন করে বলাটা আমার ভুল হয়েছে। এরপর থেকে আর এমন হবে না। তবে, আমারা কাউকে হল থেকে বের হতে বলিনি ওরা হলেই আছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত দেশের বাইরে অবস্থান করায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুল বাছির গণমাধ্যমকে বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হলাম। এখন একটা মিটিংয়ে যাচ্ছি। মিটিং শেষ করে আমি এটার খোঁজ নেব।
আরএ