দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

এখনও চলছে অগ্রহায়ণ মাস, শীত শুরুর প্রস্তুতি প্রকৃতিতে। তবে এখন ঘন কুয়াশার সঙ্গে সূর্যের খেলা চলে প্রতিদিন। শীতের এই বহুমুখী আচরণ ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের ভাবুক করে তোলে। কেউ কেউ ভাবেন, কেউবা মনের অজান্তেই হারিয়ে যায় দূরে কোনো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে। আর শীতকালীন এই কুয়াশাকে কেন্দ্র করে প্রতিবারের মতো এবারেও ময়মনসিংহের ত্রিশালের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুইদিনব্যাপী ‘কুয়াশা উৎসব’।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা কবি নজরুলের স্মৃতি বিজড়িত ক্যাম্পাসে হেমন্তের বিদায় লগ্নে শীতের সৌন্দর্যকে তুলে ধরতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এমন বৈচিত্র্যধর্মী অনুষ্ঠানের আয়োজন। আর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে তৈরি হয় নবীন-প্রবীণদের মিলনমেলা।
এবার ‘হারাবার আগে পায়ে মাখো শিশির, কুয়াশার মাঠে বাড়ুক প্রাণের ভিড়’ স্লোগানে রোববার ও সোমবার (১০ ও ১১ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণের কুয়াশা উৎসব।
কুয়াশা উৎসব ঘিরে থাকবে নানা আয়োজন। যেখানে প্রদর্শিত হবে শীত মৌসুমে গ্রাম-বাংলার হারিয়ে যাওয়া সব সংস্কৃতি। যেমন— গ্রামীণ চালা ঘর, গরুর গাড়ি, বস্ত্রহীনদের খোলা আকাশের নিচে আগুন পোহানোর দৃশ্যসহ আরও নানা লোক ঐতিহ্য। প্রদর্শনীতে স্থান পাবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের হাতে আঁকা চিত্রকর্ম, উপস্থাপন করা হবে পাহাড়ি আদিবাসী নৃত্য।
আয়োজক কমিটির একাধিক সদস্য জানান, প্রায় মাস খানেক আগে থেকেই ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের বাইরে উৎসবের প্রচারণা চালানো হচ্ছে। ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে গান পরিবেশনা ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
আয়োজক কমিটির সদস্য আহসানুল্লাহ নিপুন জানান, কুয়াশা উৎসব মূলত শীতকালে আয়োজন করা হয়। কিন্তু এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শীতকালীন ছুটি এবং নির্বাচনের কথা চিন্তা করে উৎসবের তারিখ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শান্তা রহমান বলেন, আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এটাই প্রথম কুয়াশা উৎসব। এর আগে ফেসবুক ও অন্যান্য নিউজ মিডিয়ায় এ সম্পর্কে অল্প জানলেও নিজের চোখে দেখার সৌভাগ্য হয়নি। এবারই প্রথম সেই সুযোগটা পেতে যাচ্ছি। এজন্য অত্যন্ত আগ্রহের সাথে অপেক্ষায় আছি এমন ভিন্নধর্মী আয়োজনের জন্য। আমি খুবই উচ্ছ্বসিত এবং আনন্দিত প্রথমবার কুয়াশা উৎসব দেখতে পাব বলে।
এবার তৃতীয়বারের মতো জাককানইবিতে ‘কুয়াশা উৎসব’ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে আশাবাদী আয়োজন কমিটি এবং দর্শনার্থীদের।
টি