• লাইভ টিভি
  • ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬
  • সোশ্যাল মিডিয়া
    ফেসবুক পেজ
    Desh TV News
    Desh TV
    Desh TV Drama
    Desh TV Entertainment
    Desh TV Music
    Desh TV Lifestyle
    ফেসবুক গ্রুপ
    Desh TV (Official)
    desh.tv Channel
    ইউটিউব চ্যানেল
    Desh TV News image/svg+xml
    Desh TV Entertainment image/svg+xml
    Desh TV Bulletin
    Desh TV Drama
    টিকটক
    Desh TV
    Desh TV Entertainment
    টুইটার Desh Television
    ইনস্টাগ্রাম Desh Television
    লিঙ্কডইন Desh Television
  • দেশ ক্যারিয়ার
  • দেশ ফোরাম
  • English
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • বাণিজ্য
  • রাজধানী
  • সারাদেশ
  • বিশ্ব
  • বিনোদন
  • খেলা
  • প্রবাস
  • তথ্যপ্রযুক্তি
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • বাণিজ্য
  • রাজধানী
  • সারাদেশ
  • বিশ্ব
  • বিনোদন
  • খেলা
  • প্রবাস
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • শিক্ষা
  • চাকরি
  • স্বাস্থ্য
  • অপরাধ
  • আইন-বিচার
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • আবহাওয়া
  • রাশিফল
  • বিবিধ
  • সাহিত্য ও সংস্কৃতি
  • ধর্ম
  • জাতীয় সংসদ নির্বাচন
  • দেশ ক্যারিয়ার
  • ফটোগ্যালারী
  • ভিডিও গ্যালারী
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • বাণিজ্য
  • রাজধানী
  • সারাদেশ
  • বিশ্ব
  • বিনোদন
  • খেলা
  • প্রবাস
  • তথ্যপ্রযুক্তি
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • বাণিজ্য
  • রাজধানী
  • সারাদেশ
  • বিশ্ব
  • বিনোদন
  • খেলা
  • প্রবাস
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • শিক্ষা
  • চাকরি
  • স্বাস্থ্য
  • অপরাধ
  • আইন-বিচার
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • আবহাওয়া
  • রাশিফল
  • বিবিধ
  • সাহিত্য ও সংস্কৃতি
  • ধর্ম
  • জাতীয় সংসদ নির্বাচন
  • দেশ ক্যারিয়ার
  • ফটোগ্যালারী
  • ভিডিও গ্যালারী
  • প্রচ্ছদ
  • শিক্ষা

মুক্তিযুদ্ধের বন্ধুত্ব থেকে প্রজন্মের বন্ধন: বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্কের নতুন অধ্যায়

সঞ্জু রায়, বগুড়া প্রতিনিধি
  ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:০৫

দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ। 

টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

© দেশ টেলিভিশন লিমিটেড ২০০৮ - ২০২৬ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
অ- অ+
ছবি: দেশ টিভি
ছবি: দেশ টিভি

১৯৭১-এর ডিসেম্বরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ তখন শেষ পর্যায়ে। একদিকে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বাঙালির চূড়ান্ত লড়াই, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক কূটনীতির জটিল সমীকরণ। সেই সংকটময় সময়ে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে আন্তর্জাতিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নেয়। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ডিসেম্বরের কয়েকটি প্রস্তাবে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটো বাংলাদেশের মুক্তির সংগ্রামের পক্ষে কূটনৈতিক সমর্থনের গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

google news দেশ টিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

স্বাধীনতার পরপরই চট্টগ্রাম বন্দরের মাইন ও ডুবে থাকা জাহাজ অপসারণেও সোভিয়েত নৌ সদস্যরা কাজ করেন। রুশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ সালের সেই অভিযানে ৮ শতাধিক এর বেশি সোভিয়েত নাবিক যুক্ত ছিলেন।

আজ, প্রায় পাঁচ দশক পর, সেই ইতিহাসের দিকে তাকালে সম্পর্কটির আরেকটি রূপ চোখে পড়ে। একাত্তরে যে বন্ধুত্বের প্রকাশ ঘটেছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে, সময়ের সঙ্গে সেটি বিস্তৃত হয়েছে শিক্ষা, বিজ্ঞান, গবেষণা, সংস্কৃতি ও মানুষের সরাসরি যোগাযোগে।

একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্নে, একজন গবেষকের আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রত্যাশায়, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক বিনিময়ে, একজন তরুণের আন্তর্জাতিক যুব সম্মেলনে অংশগ্রহণে কিংবা ঢাকার কোনো সাংস্কৃতিক মঞ্চে রুশ চলচ্চিত্র ও সাহিত্য উপভোগে সেই সম্পর্ক আজ নতুন প্রজন্মের কাছে নতুন অর্থে ধরা দিচ্ছে। এই পরিবর্তনের দৃশ্যমান একটি ঠিকানা ঢাকার রাশিয়ান হাউস।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ইতিহাস রয়েছে তার অর্থ শুধু একটি যুদ্ধোত্তর উদ্ধার অভিযান নয়। এটি দেখায় রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের বাইরে একটি দেশের সংকটে আরেক দেশের সহযোগিতা কীভাবে মানুষের জীবন ও অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে পারে। আর সেই ঐতিহাসিক সম্পর্কের উত্তরাধিকারই পরবর্তী সময়ে নতুন নতুন ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে।

একটি সম্পর্ক কতটা দীর্ঘস্থায়ী, তার অন্যতম মাপকাঠি হলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তৈরি সুযোগ। সোভিয়েত আমল থেকে রাশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বহু বাংলাদেশি চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী ও অন্যান্য পেশাজীবী রাশিয়ার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশে ফিরে কাজ করেছেন। আজও সেই ধারাবাহিকতা চলছে। ২০২৬ সালে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রুশ সরকারের বৃত্তির সংখ্যা ২০০-তে উন্নীত হয়েছে যা ২০১৮ সালের ৬৫টির তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এসব বৃত্তির আওতায় ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে রাশিয়ায় পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। এই সংখ্যার পেছনে রয়েছে অসংখ্য ব্যক্তিগত গল্প। কেউ হয়তো বাংলাদেশের কোনো জেলা শহরের শিক্ষার্থী। রাশিয়া তার কাছে আগে ছিল দূরের একটি দেশ। একটি বৃত্তির সুযোগ সেই দূরত্বকে বদলে দিয়েছে উচ্চশিক্ষার ঠিকানায়। আবার কেউ রাশিয়ায় পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরে শিক্ষকতা, চিকিৎসা, প্রকৌশল বা গবেষণায় যুক্ত হচ্ছেন। ফলে শিক্ষা সহযোগিতা এখানে কেবল একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; এটি দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান ও দক্ষতা আদান-প্রদানেরও গল্প।

রাশিয়ান হাউসের বিভিন্ন কার্যক্রম সরেজমিনে উপলব্ধি করে দেখা যায়, একটি কূটনৈতিক সম্পর্ক কীভাবে ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের সম্পর্ক হয়ে উঠতে পারে। কখনো সেখানে শিক্ষার্থীদের ভিড়। কেউ রাশিয়ায় পড়াশোনার বৃত্তি সম্পর্কে জানতে এসেছে। কেউ রুশ ভাষা শিখছে। কেউ বিজ্ঞান ও মহাকাশ নিয়ে আয়োজিত প্রদর্শনী দেখতে এসেছে। আবার কোনো অনুষ্ঠানে দেখা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক এবং তরুণদের একসঙ্গে। এই দৃশ্যগুলো সংবাদ হিসেবে হয়তো আলাদা আলাদা ঘটনা। কিন্তু একসঙ্গে দেখলে এগুলো একটি বড় পরিবর্তনের গল্প বলে, দুই দেশের সম্পর্কের কেন্দ্র ধীরে ধীরে মানুষের কাছাকাছি চলে আসছে।

অন্যদিকে শিক্ষার সঙ্গে গবেষণার সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। আর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গবেষণার পরিসরকে আরও বিস্তৃত করতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে রাশিয়ান হাউসের আলোচনায় গবেষণা সহযোগিতা, যৌথ সেমিনার, একাডেমিক বিনিময়, রুশ ভাষা শিক্ষা এবং রুশ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার সম্ভাবনা উঠে এসেছে।

২০২৬ সালের আগস্টে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর সঙ্গে রাশিয়ান হাউসের বৈঠকে শিক্ষা, গবেষণা, সাংস্কৃতিক কর্মসূচি, বৃত্তি, রুশ ভাষা এবং যৌথ সেমিনারসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

এ ধরনের উদ্যোগের তাৎপর্য হলো শিক্ষার্থী শুধু একটি ডিগ্রি অর্জনের জন্য বিদেশে যাবে না; গবেষকও আন্তর্জাতিক জ্ঞানভাণ্ডারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে জন্ম নেওয়া ধারণা অন্য দেশের গবেষণাগারে পৌঁছাতে পারে। একজন শিক্ষক অন্য দেশের সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করতে পারেন। একটি যৌথ গবেষণা দুই দেশের বাস্তব সমস্যার সমাধানে নতুন জ্ঞান তৈরি করতে পারে। এভাবেই শিক্ষা সহযোগিতা ধীরে ধীরে গবেষণা সহযোগিতায় রূপ নেয়।

শুধু শিক্ষা কিংবা গবেষণা নয় বিগত বছরগুলোতে রাশিয়ান ফেডারেশন রুশ দূতাবাস এবং রাশিয়ান হাউজের মাধ্যমে বিজ্ঞানকে তরুণদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার ক্ষেত্রেও নানামুখী ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৬ সালে ইউরি গ্যাগারিনের মহাকাশযাত্রার ৬৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ঢাকায় আয়োজিত হয় গ্যাগারিন সায়েন্স ফেস্টিভ্যাল। যেখানে আলোকচিত্র প্রদর্শনী, বিজ্ঞানভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন, সেমিনার, শিক্ষার্থীদের কুইজ এবং টেলিস্কোপের মাধ্যমে আকাশ পর্যবেক্ষণের মতো আয়োজনও এতে ছিল। এর আগেও Sputnik কসমো ফেস্ট ২০২৫এ ২০০-র বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেয়। রকেট মডেল তৈরি, অ্যাস্ট্রোনমি ক্যাম্প, মহাকাশবিষয়ক চলচ্চিত্র ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের বিজ্ঞান ও মহাকাশ অনুসন্ধানের প্রতি আগ্রহী করার চেষ্টা করা হয় সেই আয়োজনে। এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিশুর হাতে যখন রকেটের মডেল ওঠে, টেলিস্কোপে যখন সে প্রথমবার চাঁদ বা আকাশের কোনো বস্তু দেখার চেষ্টা করে, তখন সেটি হয়তো কোনো কূটনৈতিক নথি নয়।

কিন্তু ভবিষ্যতের বিজ্ঞানী তৈরি হওয়ার গল্প অনেক সময় এমন ছোট কৌতূহল থেকেই শুরু হয়। শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি সংস্কৃতি দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক তৈরির সবচেয়ে সহজ ও মানবিক মাধ্যম।

ঢাকার রাশিয়ান হাউসে রুশ চলচ্চিত্র উৎসব, সাহিত্য আয়োজন, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, সংগীত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নিয়মিত আয়োজন করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের তিন দিনব্যাপী রুশ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, যুব সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকরা অংশ নেন। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে রাশিয়ার জীবন, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও ইতিহাসের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। একই বছর ‘মাল্টিন্যাশনাল রাশিয়া’ ও ‘পিপলস অফ রাশিয়া’ শিরোনামের আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জীবন, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়। ২০২৬ সালের রাশিয়া ডে এর সাংস্কৃতিক আয়োজনে বাংলাদেশি ও রুশ শিক্ষার্থী, সংস্কৃতিকর্মী, সাবেক শিক্ষার্থী ও দুই দেশের বন্ধুদের অংশগ্রহণও ছিল।

একজন বাংলাদেশি হয়তো প্রথমবার রুশ চলচ্চিত্র দেখে রাশিয়ার কোনো শহর বা মানুষের জীবন সম্পর্কে জানতে পারেন। কেউ পুশকিনের কবিতা পড়েন।

কেউ রুশ সংগীত শোনেন। আবার কেউ ছবির প্রদর্শনীতে রাশিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবন দেখতে পান। পররাষ্ট্রনীতির ভাষায় এগুলো হয়তো ‘সংস্কৃতির ভাগাভাগি’। কিন্তু মানুষের ভাষায় এটি একজন মানুষকে আরেকজন মানুষকে জানার সুযোগ।এছাড়াও বাংলাদেশে রুশ ভাষা শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও রাশিয়ান হাউস কাজ করছে। রুশ ভাষা জানা একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সামনে শুধু একটি নতুন ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি হয় না। তার সামনে খুলে যেতে পারে রাশিয়ার সাহিত্য, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি এবং উচ্চশিক্ষার মূল উৎসগুলোর দরজা। অন্যদিকে বাংলাদেশকে জানার ক্ষেত্রেও ভাষা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সংস্কৃতির প্রকৃত বিনিময় তখনই সম্ভব, যখন দুই পক্ষ একে অন্যের ভাবনা ও অভিজ্ঞতা বোঝার সুযোগ পায়। আর এই ধারণা থেকেই বর্তমানে রাশিয়ান হাউজের মাধ্যমে অনলাইন এবং সরাসরি রুশ ভাষা প্রশিক্ষণের একাধিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলমান রয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়ান ফেডারেশন সবসময়ই গুরুত্ব দেয় তরুণ প্রজন্মকে। যে ধারাবাহিকতায় রাশিয়ার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক যুব কর্মসূচিতে বাংলাদেশি তরুণদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিক, শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীদের জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কর্মসূচির সুযোগও তুলে ধরা হচ্ছে।

২০২৬ সালের রুশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও যুব উন্নয়নকে কেন্দ্র করে দুই দেশের যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব যুব উৎসবেও বাংলাদেশ থেকে অংশ নেয় ৫০ জনেরও বেশি তরুণ। তারা যখন রাশিয়া যায়, তারা শুধু একটি দেশের শহর দেখে ফিরে আসে না। তারা নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হয়। নতুন চিন্তা দেখে। নিজ দেশের অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে।

ফিরে এসে সেই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের অন্য তরুণদের সঙ্গে ভাগ করে নেয়। এভাবেই আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে সামাজিক সম্পদে পরিণত হচ্ছে।

এতকিছুর ভীড়ে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার সম্পর্কের দিকে পেছন ফিরে তাকালে একটি দীর্ঘ পথরেখা দেখা যায়। ১৯৭১ এ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে সোভিয়েত সমর্থন। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ এ চট্টগ্রাম বন্দরের মাইন ও ডুবে থাকা জাহাজ অপসারণে সোভিয়েত নৌসদস্যদের অংশগ্রহণ। পরবর্তী দশকগুলো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সোভিয়েত ও রুশ বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ।

আর আজ বৃত্তি, গবেষণা, বিজ্ঞান উৎসব, রুশ ভাষা, চলচ্চিত্র, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং আন্তর্জাতিক যুব কর্মসূচিসহ একগুচ্ছ কার্যক্রম। অর্থাৎ সম্পর্কটির চরিত্র বদলেছে, কিন্তু যোগাযোগের ধারাটি থামেনি। একসময় একটি যুদ্ধের কঠিন সময়ে যে বন্ধুত্বের প্রকাশ ঘটেছিল, আজ তার নতুন রূপ দেখা যাচ্ছে শ্রেণিকক্ষে, গবেষণাগারে, সাংস্কৃতিক মঞ্চে এবং তরুণদের আন্তর্জাতিক যোগাযোগে।

রাশিয়ান ফেডারেশনে আসা একাধিক গুণী ব্যক্তিত্বদের সাথে কথা বললে জানা যায়, বাংলাদেশ ও রাশিয়ার সম্পর্ককে শুধু রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের কাঠামো দিয়ে ব্যাখ্যা করলে গল্পটির একটি বড় অংশ বাদ পড়ে যায়। কারণ এই সম্পর্কের আরেকটি গল্প আছে। সেটি একজন শিক্ষার্থীর গল্প। একজন গবেষকের গল্প। একজন বিজ্ঞানপ্রেমী শিশুর গল্প। একজন সংস্কৃতিকর্মীর গল্প।

আরও পড়ুন

নেত্রকোনায় সাবেক স্ত্রীকে হত্যার পর মাটি চাপা

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ময়মনসিংহে সাইকেল র‍্যালি ও পালাগান

আড়িয়াল খাঁর ভাঙন পরিদর্শনে জহির উদ্দিন স্বপন

একজন তরুণের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার গল্প এবং সর্বোপরি দুই দেশের সাধারণ মানুষের একে অপরকে জানার গল্প। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে যে বন্ধুত্বের ইতিহাস তৈরি হয়েছিল, স্বাধীনতার পর সহযোগিতা সেটিকে আরও গভীর করেছে। আর আজ শিক্ষা, বিজ্ঞান, গবেষণা ও সংস্কৃতির বিনিময় সেই সম্পর্ককে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। সম্পর্কে এই সেতুবন্ধনের এক প্রান্তে বাংলাদেশ আর অন্য প্রান্তে রয়েছে রাশিয়া।

সার্বিক কর্মকান্ড প্রসঙ্গে ঢাকাস্থ রাশিয়ান হাউজের পরিচালক আলেকজান্দ্রা খ্লেভনয় বলেন, দুই দেশের মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। রাশিয়া ও বাংলাদেশের বিভিন্ন দিবস উদযাপন, গুণী ব্যক্তিদের স্মরণ, বিজ্ঞান মেলা, বৃক্ষরোপন কর্মসূচি, বিভিন্ন সময় সৃজনশীল প্রতিযোগিতার আয়োজনসহ সারা বছর তারা সময়োপযোগী বিভিন্ন বিষয়ে সভা, সেমিনার ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করে যাচ্ছেন। বিগত বছরগুলোতে নেয়া ইতিবাচক নানা উদ্যোগে ইতিমধ্যেই দুই দেশের সম্পর্ক অন্যান্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। রুশ ফেডারেশন বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে যার মাধ্যমে আগের থেকে অনেক সাবলীলভাবে শিক্ষার্থীরা রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারছেন যেটি তাদের কাছেও অত্যন্ত গর্বের বিষয়। শিক্ষা, গবেষণা, সংস্কৃতি ও দুই দেশের মানুষের মাঝে এই সম্পর্কের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখারও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

কেএম

  • মুক্তিযুদ্ধ
  • বাংলাদেশ-রাশিয়া
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ঢাকার রাশিয়ান হাউসে বাংলাদেশ-রাশিয়ার সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন
ঢাকার রাশিয়ান হাউসে বাংলাদেশ-রাশিয়ার সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন
১৮ বছরে নির্যাতিতদের স্বীকৃতি ও ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী
১৮ বছরে নির্যাতিতদের স্বীকৃতি ও ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী
‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা হবে’
‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা হবে’
বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে আগ্রহী রাশিয়া, কম দামে দিতে চায় ইউরিয়া সার
বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে আগ্রহী রাশিয়া, কম দামে দিতে চায় ইউরিয়া সার
আমাদের জানুন শর্তাবলী গোপনীয়তার নীতি যোগাযোগ বাংলা কনভার্টার আর্কাইভ

দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ

টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৫৮৩১২৯৮১ মেইল: [email protected]

© দেশ টেলিভিশন লিমিটেড ২০০৮ - ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
X