দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে গোয়েন্দা সংস্থার ভেরিফিকেশনের নামে অন্তত এক হাজার মেধাবী তরুণকে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ নিয়োগের সব ধাপে মেধার প্রমাণ দেওয়ার পরও দীর্ঘ আট মাস ভেরিফিকেশনের নামে অনিশ্চয়তা ও হয়রানির পর অনেক প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি।
পোস্টে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষিত বেকারদের সবশেষ আশ্রয়স্থল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগেও চূড়ান্ত প্রহসনের নজির স্থাপন করেছে তারেক রহমানের সরকার।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থার ভেরিফিকেশনের নামে নিয়োগপ্রাপ্ত অন্তত এক হাজার মেধাবী তরুণের স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়েছে।’
নাহিদ ইসলামের মতে, লিখিত ও অন্যান্য ধাপের পরীক্ষায় মেধার প্রমাণ দেওয়ার পরও এসব তরুণকে নিয়ে দীর্ঘ আট মাস ভেরিফিকেশনের নামে অনিশ্চয়তা ও হয়রানির প্রক্রিয়া চলেছে। শেষ পর্যন্ত নিয়োগপত্র না দেওয়ায় তাঁদের গভীর হতাশার মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাদ পড়াদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে থানায় কোনো ফৌজদারি মামলা বা সাধারণ ডায়েরির তথ্য নেই এবং অতীতে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কিংবা সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন নাহিদ ইসলাম।
তাঁর অভিযোগ, কোনো স্বচ্ছ, সুস্পষ্ট ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই এসব প্রার্থীকে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘মেধা, যোগ্যতা ও পরীক্ষার সব ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করার পরও যদি কোনো নাগরিককে অস্বচ্ছ ভেরিফিকেশনের ভিত্তিতে চাকরি থেকে বঞ্চিত করা হয়, তাহলে তা শুধু সংশ্লিষ্ট তরুণদের প্রতি অবিচার নয়, বরং রাষ্ট্রের নিয়োগ ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।’
যেসব প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট ও আইনসম্মত অভিযোগ নেই, তাঁদের নিয়োগ অবিলম্বে নিশ্চিত করার দাবি জানান নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া ও ভেরিফিকেশনের মানদণ্ড জনসমক্ষে স্পষ্ট করারও দাবি জানান তিনি।
এদিকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও ভেরিফিকেশনে নেতিবাচক প্রতিবেদনের কারণে অনেক সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভেরিফিকেশনে নেতিবাচক তথ্য, জমা দেওয়া কাগজপত্রে অসামঞ্জস্যতা কিংবা সংশ্লিষ্ট উপজেলায় শূন্যপদ না থাকার মতো কারণে কোনো কোনো প্রার্থী নিয়োগপত্র নাও পেতে পারেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হন। পরে ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে সহকারী শিক্ষক পদে প্রাথমিকভাবে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত করা হয়।
চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে কাগজপত্র ও পূর্বকার্যকলাপ যাচাইসহ বিভিন্ন শর্ত পূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচিতদের মধ্যে অনেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।
এরই মধ্যে ২৩ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র ও পদায়ন আদেশ জারির জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েছে।
এমএম/