দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। বর্তমান জ্বালানি বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এমন বক্তব্যের পর, নতুন করে আলোচনায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের সক্ষমতা ও কার্যক্রম।
মাটির নিচে বিপুল গ্যাসের মজুদ, আছে উত্তোলনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সক্ষমতাও। কিন্তু সে তুলনায় মিলছে না কাঙ্ক্ষিত গ্যাস। এমন বাস্তবতায়, হাজার কোটি টাকার নতুন প্রকল্প ও রিগ কেনার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স। প্রশ্ন উঠেছে, বিদ্যমান সক্ষমতাই যেখানে পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না, সেখানে নতুন বিনিয়োগ কতটা কার্যকর হবে। প্রতিষ্ঠানটির আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র ৯টি। এর মধ্যে ৭টি গ্যাসক্ষেত্র থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ১০৭ থেকে ১০৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। অথচ পেট্রোবাংলার হিসাবে, এসব গ্যাসক্ষেত্রের দৈনিক সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ১৩৭ মিলিয়ন ঘনফুট। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের সভাপতি ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, সক্ষমতা সত্ত্বেও উত্তোলন কম কেন?
বাপেক্সের আগামী পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনায় রয়েছে বড় ধরনের অনুসন্ধান ও উন্নয়ন। ৫৮৫ লাইন কিলোমিটার ভূতাত্ত্বিক জরিপ, সাড়ে ৪ হাজার লাইন কিলোমিটার ২ডি সিসমিক এবং ৪ হাজার ২০০ কিলোমিটার ৩ডি সিসমিক সার্ভের লক্ষ্য। পরিকল্পনায় রয়েছে ১৫০টি কূপ খনন। এরমধ্যে ২০৩১ সালের মধ্যে খনন করা হবে ৪৪টি। পাশাপাশি ২টি ওয়ার্কওভার, দুটি নতুন রিগ কেনা এবং ছয়টি প্রসেস প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনাও করছে বাপেক্স।
তবে পরিকল্পনার পাশাপাশি প্রশ্ন উঠছে সক্ষমতা নিয়েও। বর্তমানে বাপেক্সের ৫টি রিগের মধ্যে ৩টি বৈদ্যুতিক ড্রিলিং রিগ, একটি বৈদ্যুতিক ওয়ার্কওভার রিগ এবং একটি যান্ত্রিক ওয়ার্কওভার রিগ।
আগামীতে আরও দুটি উচ্চক্ষমতার রিগ, যেখানে ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ম. তামিমের মতে, রিগের সংখ্যা বাড়ানোর আগে প্রয়োজন দক্ষ জনবল, কারিগরি সক্ষমতা এবং ব্যবস্থাপনায় সংস্কার।
তার মতে, শুধু অর্থ বরাদ্দ কিংবা যন্ত্রপাতি কেনা নয়, আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাপেক্সকে গড়ে তোলা জরুরি।
তবে বাপেক্সের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে প্রশ্নগুলোকে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বলে মন্তব্য করেন প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপক ও কোম্পানি সচিব মনজুরুল হক।
পরে বিকল্প প্রশ্ন পাঠানো হলে, এক সপ্তাহ সময় চাওয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়েও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দপ্তরে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি সহযোগিতা।
কে