দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে। তবে বাজার খোলার এই ইতিবাচক খবরের মাঝেই ২৫টি নির্দিষ্ট এজেন্সিকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের নতুন কাঠামো গড়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে। এই বিতর্ক ও সিন্ডিকেট সিন্ড্রোম নিয়ে সাধারণ জনশক্তি রপ্তানিকারকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিলেও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোন কোন এজেন্সিকে অনুমোদন দেওয়া হবে তা সম্পূর্ণ মালয়েশিয়া সরকারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সরকারের এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে সিন্ডিকেট বিরোধীদের উদ্বেগ আরও ঘনীভূত হচ্ছে, যা পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আবারও ব্যয়বহুল ও প্রশ্নবিদ্ধ করার শঙ্কা তৈরি করেছে।
দীর্ঘ বিরতির পর চলতি মাসেই বাংলাদেশিদের জন্য ফের খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। কিন্তু বাজার খোলার আগেই উঠেছে পুরোনো সিন্ডিকেটকে নতুন মোড়কে ফিরিয়ে আনার অভিযোগ। ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে মূল এজেন্সি হিসেবে তালিকাভুক্ত করায় প্রশ্ন তুলেছেন অন্য এজেন্সি মালিকরা।
তাদের অভিযোগ, কাঠামো বদলালেও কর্মী পাঠানোর নিয়ন্ত্রণ সীমিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হাতেই থাকছে। এতে অভিবাসন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি তৈরি হতে পারে প্রতারণার ঝুঁকি। তবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এফডব্লিউসিএমএসর এজেন্সি অনুমোদনের বিষয়টি মালয়েশিয়ার অভ্যন্তরীণ নীতি বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল হক।
১৯৭৬ সালে বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়। এর দুই বছর পর ১৯৭৮ সালে মাত্র ২৩ জন শ্রমিক পাঠানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় মালয়েশিয়া যাত্রা। এরপর ধীরে ধীরে বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজারে পরিণত হয় মালয়েশিয়া। ২০২৩ সালেই দেশটিতে কর্মী নিয়ে যান সাড়ে তিন লাখের বেশি বাংলাদেশি। তবে অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে ২০২৪ সালের জুনে বন্ধ হয়ে যায় বাজারটি।
বাজার বন্ধের পর নতুন করে চালুর উদ্যোগ নেয় দুই দেশ। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম সফর মালয়েশিয়ায় গুরুত্ব পায় শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টি।
এরই মধ্যে মালয়েশিয়ার এফডব্লিউসিএমএস প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করা হয় ২৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা। পরে সহযোগী হিসেবে যুক্ত করা হয় আরও ৩১২টি এজেন্সিকে।
আর এখানেই আপত্তি রিক্রুটিং এজেন্সি মালিকদের একাংশের। বায়রা'র সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের অভিযোগ, ৩১২টি এজেন্সি যুক্ত হলেও কর্মী পাঠানোর মূল নিয়ন্ত্রণ থাকবে ২৫টি এজেন্সির হাতে। ফলে নাম বদলালেও ফিরে আসতে পারে আগের সিন্ডিকেট কাঠামো।
শুধু নিয়ন্ত্রণ নয়, প্রশ্ন উঠেছে নির্বাচিত ২৫ এজেন্সির অভিজ্ঞতা নিয়েও। বিবিএস ওভারসিজের স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল ফারুকের অভিযোগ, সহযোগী এজেন্সিগুলো সরাসরি কর্মী পাঠাতে না পারলে তাদেরও নির্ভর করতে হবে মূল এজেন্সির ওপর। আর এতে কর্মীপ্রতি বাড়তি অর্থ আদায়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এবার একজন কর্মীর মালয়েশিয়া যেতে খরচ ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে, এমন আশঙ্কাও করছেন এজেন্সি মালিকদের মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের অভিযোগ। তাঁদের দাবি, সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য সমানভাবে বাজার উন্মুক্ত করা হোক।
তবে এফডব্লিউসিএমএসে এজেন্সি তালিকাভুক্তির বিষয়টি বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত নয় বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল হক।
বায়রার একাংশের আরেক দাবি, কর্মী পাঠাতে বোয়েসেলকে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করতে হবে। তবে জনবল ও সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এমন ব্যবস্থা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
সরকারি হিসাব বলছে, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় গেছেন সাড়ে ১৪ লাখের বেশি কর্মী।
কে