দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কাগজপত্র ও কাস্টমসের অনলাইন ব্যবস্থায় বিপুল পরিমাণ পণ্য রপ্তানির তথ্য থাকলেও বাস্তবে সেই পণ্যের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এমন অভিযোগে ভ্যালমন্ট ফ্যাশনস লিমিটেডের প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা মূল্যের পাঁচটি সন্দেহজনক রপ্তানি চালান আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
আটক পাঁচটি চালানে মোট ১ লাখ ২১ হাজার ১৭৫ কেজি পণ্য এবং ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৩০৪ মার্কিন ডলারের রপ্তানি দেখানো হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য ৫ কোটি ৪২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯২ টাকা ৩৩ পয়সা।
গত ৩ সেপ্টেম্বর কাস্টমসের অনলাইন ব্যবস্থায় রপ্তানি কনসাইনমেন্ট যাচাইয়ের সময় ভ্যালমন্ট ফ্যাশনস লিমিটেডের পাঁচটি চালান গোয়েন্দাদের নজরে আসে। প্রাথমিক বিশ্লেষণে রপ্তানির গন্তব্য, পণ্যের ধরন ও ঘোষিত মোট ওজনের মধ্যে অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে চালানগুলো আটক করে অধিকতর যাচাই শুরু করা হয়।
গোয়েন্দা বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, বন্ডেড প্রতিষ্ঠানটির গত এক বছরে আমদানি করা কাঁচামালের পরিমাণের তুলনায় ঘোষিত রপ্তানি পণ্যের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেশি। প্রাথমিকভাবে এ পরিমাণ স্বাভাবিক ইনপুট-আউটপুট অনুপাতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে প্রতীয়মান হয়।
দাখিল করা বিল অব এক্সপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, পণ্যগুলো ইসাক ব্রাদার্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের একটি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো থেকে রপ্তানি হওয়ার কথা ছিল। পরে কাস্টমস গোয়েন্দার কর্মকর্তারা সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট ডিপোতে গিয়ে ঘোষিত পণ্য পরীক্ষণের জন্য উপস্থাপনের নির্দেশ দেন।
তবে ডিপো কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কোনো পণ্যই দেখাতে পারেননি। বরং তাঁদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রপ্তানির জন্য ঘোষিত পণ্যগুলো ডিপোতে প্রবেশই করেনি।
পণ্য ডিপোতে প্রবেশ না করলেও কীভাবে চালানগুলোর কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলো, সে বিষয়ে ডিপো কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় রপ্তানি পণ্য প্রথমে সংশ্লিষ্ট কনটেইনার ডিপোতে প্রবেশ করে। এরপর প্রয়োজনীয় কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে রপ্তানি কার্যক্রম শেষ হয়। কিন্তু আলোচ্য পাঁচটি চালানের ক্ষেত্রে পণ্য ডিপোতে প্রবেশ না করেই কীভাবে কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম বিষয়।
তদন্তে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ডিপো কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টতা এবং পুরো প্রক্রিয়ায় অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে পণ্যের বাস্তব অস্তিত্ব ছাড়াই পাঁচটি চালানের বিপরীতে রপ্তানি প্রদর্শনের অপচেষ্টা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। বিষয়টি আরও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য কাস্টমস আইন ও অন্যান্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএস/