দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে উৎপাদন কমছে, বাড়ছে খরচ। চাপে দেশের টেক্সটাইল ও নিটওয়্যার শিল্প। এক মাসেই শতাধিক টেক্সটাইল কারখানায় উৎপাদন বন্ধের দাবি করেছে বিটিএমএ। বকেয়া গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল সামাল দিতে ১৮ ও ১২ মাসের কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ চেয়েছে বিটিএমএ ও বিকেএমইএ। তবে এখনো মেলেনি মন্ত্রণালয়ের আশ্বাস। অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি ধরে রাখতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে যাচাই করে কিস্তির সুযোগ দেয়ার পাশাপাশি নিশ্চিত করতে হবে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ।
পোশাক শিল্পে উৎপাদনের প্রতিটি ধাপেই প্রয়োজন গ্যাস ও বিদ্যুৎ। স্পিনিং, উইভিং, নিটিং, ডাইং-ফিনিশিং থেকে শুরু করে গার্মেন্টস উৎপাদন, সবখানেই চলে জ্বালানিচালিত মেশিন। বিশেষ করে বয়লার, ক্যাপটিভ পাওয়ার ও কমপ্রেসার চালাতে লাগে বড় অঙ্কের জ্বালানি। ফলে সরবরাহে ঘাটতি হলেই কমে উৎপাদন, বাড়ে খরচ।
এই সংকটের মধ্যে গেলো এক মাসে শতাধিক টেক্সটাইল কারখানায় উৎপাদন বন্ধের দাবি করেছে বিটিএমএ। সংগঠনটির ভাষ্য, আর্থিক সংকটে আগে থেকেই চাপে থাকা কারখানাগুলো জ্বালানি সংকটে আরও বিপাকে পড়েছে। জুন থেকে আগস্ট—এই তিন মাসের বকেয়া গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল ১৮ মাসে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে বিটিএমএ।
আর জুলাই ও আগস্টের গ্যাস-বিদ্যুতের বিল ১২ মাসে কিস্তিতে পরিশোধ করতে চায় বিকেএমইএ। বিকেএমইএ নির্বাহী সভাপতি শামীম এলাহী এহসানের দাবি, আবেদনের পরও কোনো সাড়া মেলেনি। বরং বকেয়া আদায়ে চাপ দেয়া হচ্ছে।
উদ্যোক্তাদের দাবির সঙ্গে একমত ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। প্রশাসকের মো. ফজলুল হকের মতে, বর্তমান সংকটে কিস্তির সুযোগ না দিলে শিল্পের ওপর চাপ আরও বাড়বে।
নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের সভাপতি ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম মনে করছেন, উৎপাদন ৪০ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়াকে জ্বালানি ব্যবস্থাপনার ঘাটতির প্রতিফলন। পরিস্থিতি উত্তরণে বকেয়া বিলের চাপ কমানোর পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের পরামর্শ তাদের।
অর্থনীতি বিশ্লেষক মামুন রশীদ ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. এম এম আকাশের পরামর্শ, কর্মসংস্থান ও উৎপাদন ধরে রাখতে যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে কিস্তির সুবিধা দেয়া যেতে পারে। এজন্য সরকার ও উদ্যোক্তাদের কার্যকর সমন্বয় জরুরি।
এদিকে, জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশে প্রায় ৭ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। ফলে শিল্প সচল রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ চান সংশ্লিষ্টরা।
কে