দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দীর্ঘদিন আটকে থাকা আমানতের মূল টাকা ফেরত পাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় গ্রাহকদের ভিড় বেড়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে ব্যক্তি আমানতকারীদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলনের আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে।
রাজধানীর মতিঝিল ও দিলকুশার কয়েকটি শাখা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে গ্রাহকদের আমানতের মূল অর্থ এককালীন ফেরত দেওয়া হবে। এ কারণে নিজেদের জমানো টাকা তুলতে সকাল থেকেই অনেক গ্রাহক শাখায় গিয়ে আবেদন করছেন।
সংকটে পড়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক—একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। এসব ব্যাংকের আমানতকারীরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের অর্থ ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যক্তি আমানতকারীদের টাকা তোলার সুযোগ দেওয়ায় মঙ্গলবার থেকে শাখাগুলোতে গ্রাহকদের আনাগোনা বেড়েছে।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের দিলকুশা শাখার এক গ্রাহক বলেন, ‘১৭ লাখ টাকা এফডিআর করা এই শাখায়। দুই বছর ধরে টাকা পাওয়ার জন্য ব্যাংকে ঘুরছি। দুই-একবার সামান্য মুনাফা দিলেও পরে আর তাও পাইনি। এখন সরকার টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে শুনেছি, সেজন্য এসেছি। আমি সব টাকা তুলে নেওয়ার আবেদন জমা দিয়েছি। তারা ৭ তারিখের পর টাকা বুঝিয়ে দেবে বলে জানিয়েছে।’
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের প্রতিনিধি শাফায়েত আহমেদ চৌধুরী বলেন, সঞ্চয়, এসএমডি ও মুদারাবা মেয়াদি আমানত ছাড়া বাকি তিনটি খাত এরই মধ্যে খুলে দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকের প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা তোলার আবেদন নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ৭ সেপ্টেম্বরের পর থেকে অর্থ পরিশোধ শুরু হবে।
তিনি বলেন, এফডিআরের ক্ষেত্রে কারও জরুরি প্রয়োজন থাকলে এখনই টাকা তুলতে পারবেন। কেউ জমে থাকা মুনাফা না নিয়ে শুধু মূল টাকা নিতে চাইলে সেটিও নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। জরুরি প্রয়োজন হলে মূল টাকা ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘এটি যেহেতু সরকারি ব্যাংক এবং বৃহত্তম সরকারি ইসলামী ব্যাংক, তাই আমি সবাইকে অনুরোধ করব, আস্থা রাখুন। অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। আমাদের এখানে দক্ষ জনবল রয়েছে এবং আমরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।’
ইউনিয়ন ব্যাংকের দিলকুশা শাখার ব্যবস্থাপক মোস্তফা জাভেদ বিন শহীদ বলেন, ‘কারেন্ট অ্যাকাউন্ট থেকে গ্রাহকরা প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। এজন্য নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। একইভাবে, কোনো গ্রাহক যদি সম্পূর্ণভাবে ব্যাংক থেকে এক্সিট করতে চান, সেক্ষেত্রেও তার আবেদন গ্রহণ করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত আমরা খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি। কোনো গ্রাহকই ব্যাংক থেকে এক্সিট করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেননি। বরং তারা আমাদের ওপর আস্থা রাখছেন এবং বিশ্বাস করছেন, প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা তাদের টাকা দিতে পারব।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্রাহকদের প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে সেভিংস ও কারেন্ট অ্যাকাউন্ট থেকে নিয়ম অনুযায়ী টাকা উত্তোলনের ব্যবস্থা থাকবে। আমরা বিশ্বাস করি, এতে কোনো সমস্যা হবে না।’
শুধু ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক বা ইউনিয়ন ব্যাংক নয়, পাঁচ ব্যাংকের শাখাগুলোতেই সকাল থেকে টাকা তুলতে বা মুনাফার অংশ বুঝে নিতে গ্রাহকদের ভিড় দেখা গেছে। মতিঝিল ও দিলকুশার প্রায় এক ডজন শাখা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্যক্তি আমানতকারীরা আল-ওয়াদিয়াহ চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব ও মুদারাবা মেয়াদি আমানত থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী মূল টাকা তুলতে পারবেন। এ সুবিধা নিতে সংশ্লিষ্ট শাখায় ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে হবে। আবেদনে হিসাবে কত টাকা রয়েছে, কত টাকা তুলতে চান এবং টাকা তোলার প্রয়োজনের বিষয় উল্লেখ করতে হবে। আবেদন যাচাইয়ের পর ৭ সেপ্টেম্বর থেকে টাকা পরিশোধ শুরু হবে।
তবে টাকা তুললে আমানতের ওপর প্রাপ্য মুনাফা পাওয়া যাবে না। মূল টাকা উত্তোলনের সুবিধা গ্রহণ করলে সেটিকে সংশ্লিষ্ট আমানতকারীর জন্য পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে। একই সঙ্গে হস্তান্তরকারী ব্যাংকের কাছে গ্রাহকের কোনো ঋণ বা দায় থাকলে টাকা ফেরতের আগে তা আমানতের অর্থ থেকে সমন্বয় করা হবে।
এমএম/