দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আন্তর্জাতিক বাজারে ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশীয় বুলিয়ন মার্কেটে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) সংকট ও দাম বাড়ার কারণে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বশেষ সমন্বয় অনুযায়ী প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ১৫৮ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। যার ফলে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা অতিক্রম করেছে।
এদিকে চলতি আগস্ট মাসে স্বর্ণের দাম ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স প্রায় ৪ হাজার ৪০০ ডলারে পৌঁছেছে। এতে ইঙ্গিত মিলছে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কাছে মূল্যবান ধাতুটি আবারও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। ফলে ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে থাকা স্বর্ণের বাজারে আরও দাম বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর স্বর্ণের দাম জানুয়ারিতে রেকর্ড সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫৯৫ ডলার থেকে জুনে ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে যায়। তেলের দাম বাড়ার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা নগদ অর্থ বা তারল্য ধরে রাখার দিকে ঝুঁকেছিলেন।
একই সময়ে কিছু কেন্দ্রীয় ব্যাংক অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে সহায়তা করতে তাদের রিজার্ভ ব্যবহার করেছিল। স্বাধীন বিশ্লেষক রস নরম্যান বলেন, ‘মনে হচ্ছে যেন স্বর্ণের ওপর থেকে অবশেষে হ্যান্ডব্রেকটি সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
চলতি মাসে স্বর্ণের দাম দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধ স্তর অতিক্রম করেছে। এর পেছনে সহায়তা করেছে তেলের দাম কমে যাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বল মুদ্রাস্ফীতির তথ্য। এসব কারণে ভবিষ্যতে সুদের হার বাড়ার প্রত্যাশাও কমেছে।
এইচএসবিসির প্রধান মূল্যবান ধাতু বিশ্লেষক জেমস স্টিল বলেন, ‘যদি তেল আবার প্রধান আকর্ষণ না হয়ে ওঠে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে এবং তেলের দাম না বাড়ে, তাহলে স্বর্ণের দাম বাড়ার পথটিই সবচেয়ে সহজ হবে।’
গত দুই সপ্তাহে স্বর্ণের দামে শক্তিশালী পুনরুদ্ধার দেখা গেছে।
স্টিলের মতে, এতে বোঝা যায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা সার্বভৌম সম্পদ তহবিলগুলো স্বর্ণ কিনতে সক্রিয় ছিল। তবে তিনি এটিকে নিশ্চিত তথ্য নয়, বরং একটি অনুমান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
স্বর্ণের বড় বারের প্রাতিষ্ঠানিক চাহিদাও এর দাম বাড়ার আরেকটি সম্ভাব্য কারণ। চীনসহ এশিয়ার বিভিন্ন বাণিজ্যকেন্দ্রে স্বর্ণের প্রিমিয়াম নতুন করে কেনার আগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত সপ্তাহে চীনে স্বর্ণের প্রিমিয়াম ছিল প্রতি আউন্স ১.৫০ ডলার। স্টিল বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটি আসলে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের আগে বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর যে অবস্থান ছিল, তা পুনর্গঠন করা।’
তবে স্বর্ণের দাম বাড়ার পথে কিছু বাধাও রয়েছে। ইরান যুদ্ধ শেষ করার আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা, গহনা ও মুদ্রার চাহিদা কমে যাওয়া এবং সুদের হারের প্রতি সংবেদনশীল স্বর্ণ-সমর্থিত এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ) বিনিয়োগের প্রবাহ কম থাকায় বুলিয়নের ঊর্ধ্বগতি সীমিত হচ্ছে।
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের প্রথমার্ধে স্বর্ণ-সমর্থিত ইটিএফগুলোতে মাত্র ৭ বিলিয়ন ডলার নতুন বিনিয়োগ এসেছে। অথচ এসব তহবিলের ব্যবস্থাপনায় থাকা মোট সম্পদের পরিমাণ ৫৮২ বিলিয়ন ডলার।
স্বর্ণের দাম আরও বাড়ার পথে প্রযুক্তিগত কিছু সংকেতও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। রিলেটিভ স্ট্রেংথ ইনডেক্স (আরএসআই) বলছে, স্বর্ণের দাম স্বল্পমেয়াদে ‘ওভারবট’ বা অতিরিক্ত কেনার পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে। একই সময়ে ২০০ দিনের মুভিং অ্যাভারেজ, যা বর্তমানে ৪ হাজার ৫০৪ ডলারে রয়েছে, স্বর্ণের জন্য একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ স্তর হিসেবে কাজ করছে।
কে