দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দেশের সৃজনশীল অর্থনীতির উন্নয়নের লক্ষ্যে খাতভিত্তিক রূপরেখা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য সরকার ২৭ সদস্যের একটি জাতীয় সৃজনশীল অর্থনীতি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করেছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ ব্যাপারে একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী, শিল্প মন্ত্রী, বাণিজ্য মন্ত্রী ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী সদস্য হিসেবে কাজ করবেন।
কমিটিতে আরও রয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী; অর্থ ও পরিকল্পনা, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাগণ; স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী; এবং তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের নীতি ও কৌশল বিষয়ক উপদেষ্টা।
অর্থ বিভাগ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবদেরও সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিএসআইসি) চেয়ারম্যানও একজন সদস্য।
ব্র্যাক, এইচএসবিসি বাংলাদেশ, বেঙ্গল ফাউন্ডেশন এবং শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির প্রতিনিধিরা এই কমিটির সদস্য।
ফ্যাশন ডিজাইনার ও উদ্যোক্তা বিবি রাসেলকে আরেকজন খাত বিশেষজ্ঞের সঙ্গে খাত বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।
অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সামষ্টিক অর্থনীতি ও টিডিএম) সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
গেজেটে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কমিটিতে ‘সচিব’ পদটির মধ্যে সিনিয়র সচিবও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
কার্যপরিধি অনুসারে, কমিটি সৃজনশীল অর্থনীতি সংক্রান্ত খাত-ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন করবে এবং সেগুলোর বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে।
এটি সৃজনশীল অর্থনীতি সম্পর্কিত আন্তঃমন্ত্রণালয় ও আন্তঃসংস্থা কার্যক্রমের সমন্বয় সাধন করবে এবং নির্দেশনা দেবে।
কমিটি বিভিন্ন খাত-ভিত্তিক কমিটির কার্যক্রম পর্যালোচনা করবে এবং ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে বাস্তবায়নের অগ্রগতি মূল্যায়ন করবে। প্রয়োজনে কমিটি সহ-সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে এবং এর সভাগুলো প্রয়োজনমতো অনুষ্ঠিত হবে।
অর্থ বিভাগ কমিটিকে সচিবালয় সংক্রান্ত সহায়তা দেবে। সরকারি আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।
এদিকে দেশে ব্যবসা পরিচালনা ও বিনিয়োগের পরিবেশ সহজতর, প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব করতে ‘ন্যাশনাল টাস্কফোর্স অন ডিরেগুলেশন অ্যান্ড বিজনেস ফ্যাসিলিটেশন’ গঠন করেছে সরকার।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী টাস্কফোর্সের সভাপতি। এছাড়াও পরিবেশমন্ত্রী, শিল্পমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী এবং অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাসহ বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান, প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারীকে এই টাস্কফোর্সের সদস্য করা হয়েছে।
সদস্য হিসেবে আরও রয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ সচিব, নৌপরিবহন সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান এবং যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদপ্তরের রেজিস্ট্রার। ব্যবসায়ী ও শিল্প খাত থেকে এফবিসিসিআই, এফআইসিসিআই, ডিসিসিআই, এমসিসিআই, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সভাপতিদের রাখা হয়েছে।
টাস্কফোর্সের অন্যতম প্রধান কাজ হবে বিনিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসা সহজীকরণ-সংক্রান্ত খাতভিত্তিক সংস্কার, রোডম্যাপ অনুমোদন ও বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা। একইসঙ্গে লাইসেন্স অনুমোদন, ছাড়পত্র, কর, শুল্ক, ব্যাংকিং, পুঁজিবাজার, নির্মাণ, পরিবেশ ও স্থানীয় সেবায় প্রয়োজনীয় ধাপ চিহ্নিত করে তা সহজ করার নির্দেশনা দেবে।
সেই সঙ্গে সরকারি সেবায় সিঙ্গেল উইন্ডো, সার্ভিস লেভেল এগ্রিমেন্ট (এসএলএ), স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন ও অনলাইন ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বাস্তবায়নের নীতিগত দিকনির্দেশনাও দেবে কমিটি।
এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে থাকা জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তি, আইন, বিধি, নীতিমালা, প্রজ্ঞাপন ও প্রশাসনিক আদেশ সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত করা; ব্যবসায়ী ও সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, অনিয়ম ও বিলম্বের বিষয়গুলো তদারকি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে টাস্কফোর্সকে।
এই কার্যক্রমের অগ্রগতি ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা হবে। টাস্কফোর্স প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য সদস্যকে কো-অপ্ট করতে পারবে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সরকারের এ উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে ব্যবসা পরিচালনায় অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ও জটিলতা কমিয়ে সেবা প্রদান প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছ করা এবং দেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা। বাসস
কে