দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ফ্রিল্যান্সার ও ব্যক্তি পর্যায়ের সেবা রপ্তানিকারকদের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন আরও সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল সেবা খাতকে সহায়তা করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ফ্রিল্যান্সাররা এখন প্ল্যাটফর্ম স্টেটমেন্ট, ইমেইল এবং অন্যান্য ডিজিটাল যোগাযোগের মতো ইলেকট্রনিক প্রমাণের ভিত্তিতে বৈদেশিক আয়ের অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন। এর ফলে প্রচলিত রপ্তানি নথির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ডিজিটাল বাণিজ্যের সঙ্গে প্রক্রিয়াটি আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
ক্ষুদ্র অঙ্কের লেনদেন সহজ করতে ২০,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র ছাড়াই গ্রহণ করা যাবে। একই সঙ্গে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডার (ওপিজিএসপি)-এর মাধ্যমে প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০,০০০ ডলার পর্যন্ত অর্থ গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে, তবে এসব অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া সার্কুলারটি ডুয়াল-কারেন্সি ‘ফ্রিল্যান্সার কার্ড’ ইস্যুর সুযোগ দিয়েছে এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার (এমএফএসপি) ও পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি)-এর ব্যবহার সম্প্রসারণ করেছে, যা ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও কার্যকর করবে।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সাররা তাদের রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রায় সংরক্ষণ করতে পারবেন, যা এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা (ইআকিউ) নামে পরিচিত। অন্যান্য সেবা রপ্তানিকারকদের ক্ষেত্রে এই সীমা ৩০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ব্যয় ব্যবস্থাপনায় অধিক নমনীয়তা প্রদান করবে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপটি সময়োপযোগী ও দূরদর্শী, যা ডিজিটাল বাণিজ্য ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছে। প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং আনুষ্ঠানিক চ্যানেলের ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে এটি সেবা রপ্তানির আয়কে আরও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনবে, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ জোরদার করবে।
ব্যবসায়িক মহলের মতে, এই উদ্যোগ ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ব্যবসা পরিচালনা আরও সহজ করবে, আনুষ্ঠানিক রেমিট্যান্স প্রবাহকে উৎসাহিত করবে এবং বাংলাদেশের সেবা রপ্তানিকে বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে আরও সংযুক্ত করবে। একই সঙ্গে এটি একটি জ্ঞানভিত্তিক ও ডিজিটাল-চালিত রপ্তানি খাত গড়ে তোলার জাতীয় লক্ষ্য অর্জনেও সহায়ক হবে।
/অ