দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বৈদেশিক অর্থায়নের চাপ কমানো, রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচির আলোচনা শুরু করেছে সরকার। তিন বছর মেয়াদি এ কর্মসূচির আওতায় ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার আশা করছে বাংলাদেশ। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন ঋণের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে প্রতিশ্রুত সংস্কার বাস্তবায়ন এবং অর্থের উৎপাদনশীল ব্যবহার।
নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে ঢাকা সফরে রয়েছে আইএমএফের ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল। বাংলাদেশ মিশনপ্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআরসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রাজস্ব সংস্কার, ব্যাংকিং খাত, বৈদেশিক অর্থায়ন, বিনিময় হার এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা।
সরকারের প্রত্যাশা, তিন বছর মেয়াদি নতুন কর্মসূচির আওতায় সাড়ে চারশো থেকে পাঁচশো কোটি ডলার ঋণ মিলবে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকেও অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও চলমান সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে ইতিবাচক মূল্যায়নের কথা জানিয়েছে আইএমএফ।
গবেষণা সংস্থা র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. আব্দুর রাজ্জাক বলছেন, নতুন ঋণ যেন শুধু বাজেট ঘাটতি পূরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। উৎপাদনশীল খাত, রপ্তানি সক্ষমতা, কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়াতে এ অর্থ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সংস্কার বাস্তবায়নে রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও নীতির ধারাবাহিকতাও জরুরি।
অর্থনীতিবিদ বিশ্লেষক মামুন রশীদ বলছেন, আইএমএফের মূল নজর শুধু ঋণ বিতরণে নয়, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের সংস্কারেও। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।
২০২৩ সালে আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি করে বাংলাদেশ, যা পরে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। পাঁচ কিস্তিতে ৩৬৪ কোটি ডলার ছাড় হলেও ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ ছাড় না হওয়ায় উভয় পক্ষের সম্মতিতে কর্মসূচিটি শেষ হয়। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এবার নতুন কাঠামো ও নতুন শর্তে আলোচনা এগোচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই কর্মসূচির সাফল্য নির্ভর করবে সংস্কার বাস্তবায়ন ও অর্থের দক্ষ ব্যবহারের ওপর, বলছেন অর্থনীতিবিদ।
সফর শেষে আইএমএফ প্রতিনিধি দল তাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদন ওয়াশিংটনে জমা দেবে। প্রতিবেদন ইতিবাচক হলে অক্টোবরের পর শুরু হতে পারে চূড়ান্ত আলোচনা। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে নতুন ঋণের অর্থ ছাড়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
কে