দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বছরের পর বছর বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে দেশের অর্থনীতি হারিয়েছে বিপুল পরিমাণ সম্পদ। সরকার পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ জোরদার করলেও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, শুধু অর্থ ফেরত আনলেই হবে না, যে দুর্বলতা ও অনিয়মের সুযোগে অর্থ পাচার হয়েছে সে পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।
বছরের পর বছর ব্যাংক খাতের অনিয়ম, ভুয়া ঋণ, আমদানিতে অতিমূল্যায়ন, রপ্তানিতে কম মূল্য ঘোষণা, হুন্ডি এবং অফশোর কোম্পানির অপব্যবহারের মাধ্যমে দেশ থেকে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে শুধু বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাই দেশ ছেড়ে যায়নি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতাও।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের মতে, অর্থ পাচারের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বেড়েছে, ডলারের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং সরকারের রাজস্ব আহরণও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। তবে তাদের মতে, বিদেশ থেকে অর্থ ফিরিয়ে আনা একটি দীর্ঘ ও জটিল আইনি প্রক্রিয়া। তাই অর্থ উদ্ধারের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে নতুন করে অর্থ পাচারের সুযোগ তৈরি না হয়, সেদিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আর্থিক খাতের কার্যকর তদারকি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, অর্থ পাচারবিরোধী আইন বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা গেলে এই প্রবণতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
অর্থনীতিবিদদের মতে, অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে টেকসই সাফল্য নির্ভর করবে শুধু অতীতের অর্থ উদ্ধার নয় বরং ভবিষ্যতের পাচার রোধে কার্যকর সংস্কার, জবাবদিহি এবং সুশাসন নিশ্চিত করার ওপর।
কে