দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দেশের ব্যাংক খাত থেকে আত্মসাৎ বা লুট হওয়া অর্থ দ্রুত শনাক্ত, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ধার এবং আমানতকারীদের স্বার্থে ফেরত দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, শুধু দুর্বল ব্যাংক পুনঃমূলধনীকরণ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক খাতকে টেকসই করা সম্ভব নয়, যদি অতীতে সংঘটিত অনিয়ম ও অর্থ লোপাটের কার্যকর সমাধান নিশ্চিত না করা হয়।
জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পর দেওয়া ওই বিবৃতিতে বিএবি জানায়, সরকার দুর্বল ব্যাংকগুলোর জন্য প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, যা ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এই পুনঃমূলধনীকরণের প্রকৃত সুফল পেতে হলে একই সঙ্গে লুট হওয়া সম্পদ দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে হবে।
সংগঠনটি আরও বলেছে, জনসাধারণের অর্থ দিয়ে ব্যাংক শক্তিশালী করার উদ্যোগ তখনই সফল হবে, যখন সেই অর্থের অপব্যবহারকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনা যাবে। আমানতকারীদের আস্থা ফেরাতে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।
বিএবি ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ও ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের পুনরায় ব্যাংকিং খাতে প্রবেশের সুযোগ না দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
সংগঠনটি ব্যাংক খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে কার্যকর অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরে। তাদের মতে, দুর্বল ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ কমানো এবং ব্যালান্স শিট শক্তিশালী করতে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, লুট হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া কার্যকর না হলে সরকারি অর্থে ব্যাংক পুনঃমূলধনীকরণ দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না। তাই ‘সংস্কার, পুনরুদ্ধার ও জবাবদিহি’—এই তিনটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।
সবশেষে বিএবি জানায়, সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার মাধ্যমে প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়িত হলে এটি দেশের আর্থিক খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
এমএস/