দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঢাকার কাছে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনাল এখন থেকে পরবর্তী ২২ বছর পরিচালনা করবে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক লজিস্টিক প্রতিষ্ঠান মেডলগ। সোমবার ঢাকায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং মেডলগ বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের মধ্যে কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে মেডলগের হাতে যায়।
চুক্তিতে সই করেন সিপিএ চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস.এম. মনিরুজ্জামান এবং মেডলগ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ.টি.এম. আনিসুল মিল্লাত। অনুষ্ঠানে সরকার এবং মেডলগের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন এ দিনটিকে ‘বাংলাদেশের জন্য লাল অক্ষরের দিন’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পিআইসিটি নির্মিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে এটি অব্যবহৃত ছিল এবং প্রতি বছর লোকসান দিচ্ছিল। আমদানিকারকরা লজিস্টিক জটিলতা, ধীর শুল্ক কার্যক্রম এবং ডকুমেন্টেশন সমস্যার কারণে টার্মিনালটি ব্যবহার করতে চাইতেন না।
তিনি জানান, টার্মিনাল নির্মাণে প্রায় ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয় হয় এবং পরিচালন ব্যয় দাঁড়ায় ১৬৫ কোটি টাকা। তার ভাষায়, ‘মেডলগের অংশগ্রহণ এই বাস্তবতা বদলে দেবে।’
সুইস রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি বলেন, এই চুক্তি বাংলাদেশের প্রতি নতুন বিদেশি বিনিয়োগকারীর আস্থার প্রমাণ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কাজ করছে এবং বন্দর ও সরবরাহ খাতকে শক্তিশালী করছে—এই সময়ে এমন একটি উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।’
মেডলগ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ.টি.এম. আনিসুল মিল্লাত বলেন, পানগাঁও টার্মিনাল দেশের লজিস্টিক খাতে নতুন গতি আনবে। তিনি বলেন, ‘মেডলগের বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এই টার্মিনাল অভ্যন্তরীণ লজিস্টিক নেটওয়ার্কে বড় পরিবর্তন আনবে এবং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাবে।’
চুক্তি অনুযায়ী, মেডলগ টার্মিনালের সার্বিক পরিচালনা, সরবরাহ শৃঙ্খলা, অটোমেশন এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের দায়িত্ব নেবে। বার্ষিক হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টিইইউতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য নৌবন্দর ও সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে সংযোগ জোরদার করতে মেডলগ অভ্যন্তরীণ বার্জ পরিচালনা করবে। ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও রিফার যানবাহন যুক্ত হওয়ায় দেশজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থাও সহজ হবে।
টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন মোবাইল হারবার ক্রেন, রিফার কানেকশন, ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সুবিধা, খালি কন্টেইনার ইয়ার্ড, মেরামত সুবিধা এবং স্টাফিং-স্ট্রিপিংয়ের জন্য বড় আকারের কন্টেইনার ফ্রেইট স্টেশন তৈরি করা হবে। টার্মিনাল–সংলগ্ন জমিতে তুলা গুদাম ও ড্রাই স্টোরেজ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
ডিজিটাল সুবিধা বাড়াতে চালু হবে ‘থ্রু বিল অব লেডিং’ ব্যবস্থা, যার ফলে একক নথিতে আন্তর্জাতিক বন্দর থেকে সরাসরি পানগাঁও পর্যন্ত পণ্য পরিবহন করা যাবে। এতে শুল্ক প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং সময় কমবে। গ্রিন চ্যানেল সুবিধা আরও দ্রুততা আনবে পণ্য ছাড়পত্রে।
এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের লজিস্টিক খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে এবং অভ্যন্তরীণ পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এমএস/