দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আগামী পবিত্র রমজান ও জাতীয় নির্বাচন প্রায় একই সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উভয় ঘটনাই নিত্যপণ্যের দামের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও ব্যবসায়ী নেতারা। এ পরিস্থিতিতে আগেভাগে বাজারে পণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধি ও বাজার পর্যবেক্ষণ জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বুধবার (১২ নভেম্বর) রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে আয়োজিত ‘নিত্যপণ্যের বাজার পরিস্থিতি’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এসব পরামর্শ দেন ব্যবসায়ী ও নীতিনির্ধারকরা।
এফবিসিসিআই প্রশাসক আব্দুর রহিম বলেন, বর্তমানে বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও রমজানে খাদ্যপণ্যের চাহিদা বাড়বে। এজন্য রোজায় ব্যবহৃত পণ্য আমদানি সহজ করতে এলসি মার্জিন কমানো হয়েছে। এখন বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের সংস্থা, উৎপাদনকারী, আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজি ও পরিবহন ব্যবস্থায় যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে। রমজানকে সামনে রেখে পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে চাঁদাবাজি যেন কারণ না হয় এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সজাগ থাকতে হবে।
এফবিসিসিআই প্রশাসক ব্যবসায়ী সমিতিগুলোকেও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পণ্যের দাম সঠিক, স্বাভাবিক ও সহজলভ্য রাখতে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, আচরণেও দায়িত্ববোধের প্রতিফলন থাকতে হবে।
পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মওলা বলেন, ভোজ্যতেলের সরবরাহ ঠিক থাকলে বাজারে সমস্যা হবে না। বর্তমানে ‘আন্ডাররেট’ চলছে।
তিনি অভিযোগ করেন, তেলের দাম বাড়লে বাজারে তেল পাওয়া যায় না, কারণ বিশেষ ‘ডিও লেটার’-এর মাধ্যমে তেল কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে বিক্রি হয়, যারা পরে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করেন। এজন্য এই ডিও ব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
টিকে গ্রুপের পরিচালক আতাহার তাসলিম বলেন, দেশে বছরে ২২-২৩ লাখ টন ভোজ্যতেল আমদানি করতে হয়, যার বেশিরভাগই সরবরাহ করে তিনটি কোম্পানি। রমজান মাসে বাড়তি চাহিদা পূরণে সরকারকে আমদানি জোরদার করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শীতকালে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হয়। এটি রোধে মিলগুলোতে গ্যাস সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে হবে।
মেইজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মিজানুল হক বলেন, পোর্টে শুল্ক বেড়ে যাওয়ায় আমদানির খরচও বেড়েছে, ফলে পণ্যের দাম বাড়বে। এছাড়া লাইটার জাহাজের স্বল্পতার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শ্যামবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন বলেন, করপোরেট ব্যবসায়ীরা বাজারে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করছে। তিন টাকার মোড়কে ৪০ টাকা বাড়িয়ে নিচ্ছে, সরকার ব্যবস্থা নিতে পারছে না, অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে ফড়িয়া ও দালালদের কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে অনেক সময় সহায়তা করছে। এই অবস্থায় শুধু সরবরাহ বাড়িয়ে দাম নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
স্বতন্ত্র বাজার বিশ্লেষক কাজী আবদুল হান্নান বলেন, নির্বাচনের সময় বাজারে অতিরিক্ত টাকা সরবরাহ বাড়ে, ফলে চাহিদা বেড়ে যায়। রমজানেও একই অবস্থা হয়। এই দুটি ঘটনা মিলেই বাজার অস্থিতিশীল করার অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে।
তিনি আরও জানান, মাত্র পাঁচ দিনে পেঁয়াজের দাম ৫০ শতাংশ বেড়েছে যা স্বাভাবিক নয়। নতুন সরকারের সময় ব্যবসায়ীরা ভয়ে রয়েছে। পেঁয়াজের দামবৃদ্ধির মাধ্যমে পুরোনো বাজার নিয়ন্ত্রণের কৌশল আবারও ফিরে আসছে বলে মনে হচ্ছে।
/অ