দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পুঁজিবাজারের উন্নয়ন, সংস্কার এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও পুঁজিবাজারের অংশীজনদের মধ্যে চতুর্থ মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২২ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসির মাল্টিপারপাস হলে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীন বিএসইসি শক্তিশালীকরণ কমিটির সভাপতি ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান জনাব খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।
সভায় বিএসইসির কমিশনারবৃন্দ জনাব মো. মোহসিন চৌধুরী, জনাব মো. আলী আকবর, জনাব ফারজানা লালারুখ এবং জনাব মো. সাইফুদ্দিন, সিএফএ — ছাড়াও পুঁজিবাজারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা, সংস্কার কার্যক্রম, আইনী কাঠামোর আধুনিকায়ন, সার্ভেইল্যান্স, সাইবার নিরাপত্তা, মিউচুয়াল ফান্ড ও মার্চেন্ট ব্যাংক খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি, রাষ্ট্রীয় ও বৃহৎ কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তকরণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় বক্তব্যে ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আমাদের মানসিকতা বদলাতে হবে। গণতান্ত্রিক চর্চা, সততা ও সামষ্টিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পুঁজিবাজার নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই — বরং সমন্বয়ের মাধ্যমে গতিশীলতা আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো বিএসইসিরও সায়ত্ত্বশাসন প্রয়োজন, যা ভবিষ্যতে বাস্তবায়িত হবে। পাশাপাশি তিনি সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল)-এর রেজিস্ট্রেশন ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করে দ্রুত কার্যকর করার নির্দেশনা দেন।
সভায় পুঁজিবাজারের উন্নয়ন সংক্রান্ত বেশ কিছু বিষয়ে অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। আলোচনায় বাজার কাঠামোর আধুনিকায়ন, ট্রেড সেটেলমেন্ট সময় হ্রাস, রেকর্ড ডেটে লেনদেন চালু, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ ও ফিউচারস মার্কেট গঠন, এপিআই কানেকটিভিটি বৃদ্ধি, বিনিয়োগ শিক্ষা সম্প্রসারণ, এবং পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিতকরণের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ সভায় বলেন, পুঁজিবাজার সংস্কারে কমিশনের চলমান উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। ‘মার্জিন বিধিমালা ২০২৫’, ‘মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা ২০২৫’ এবং ‘পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ রুলস ২০২৫’-এর কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। এগুলো কার্যকর হলে পুঁজিবাজারের আইনি সংস্কারের বড় একটি ধাপ সম্পন্ন হবে।
তিনি আশ্বস্ত করেন, নতুন বিধিমালা কার্যকরের পর প্রয়োজনে সংশোধন ও সমন্বয়ের জন্য ছয় মাস থেকে এক বছরের সময় রাখা হবে।
সভায় উপস্থিত অংশীজনরা পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা, আস্থা ও স্থিতিশীলতা আনতে সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন। তারা বলেন, সুষ্ঠু সমন্বয় ও কাঠামোগত সংস্কার পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের প্রধান উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়ক হবে।
সভায় ডিএসই, সিএসই, আইসিবি, সিডিবিএল, সিসিবিএল, ডিবিএ, বিএমবিএসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রতিনিধিবৃন্দ অংশ নেন।
/অ