দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাশিয়া, ইউএই, মালয়েশিয়ার মতো অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি কমেছে। তবে গত অর্থবছরে অপ্রচলিত বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। মোট তৈরি পোশাক বেড়েছে রপ্তানি ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এ অবস্থায় নতুন বাজারের দিকে আরও মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন খাতের ব্যবসায়ীরা।
তারা বলছেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে নতুন বাজারে প্রবেশ ও তাদের চাহিদার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর ওপর। অপ্রচলিত বাজারে যে প্রবৃদ্ধির ধারা শুরু হয়েছে, সেটি আরও বেগবান করতে হলে কৌশলগত পরিকল্পনা, সরকারের সক্রিয় ভূমিকা ও উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী মানসিকতা একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
দেশে জাতীয় রপ্তানির মূল চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয় হয়েছে ৩৯ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের ৩৬ দশমিক ১৫ বিলিয়নের চেয়ে ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে নিট পোশাক রপ্তানি আয় ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছর ছিল ১৯ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং ভারত শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এই শ্রেণিভুক্ত বাজারগুলোর মধ্যে তুরস্কে রপ্তানি বেড়েছে ২৫ দশমিক ৬২ শতাংশ, ভারতে ১৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ ও জাপানে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছর ছিল ৬ দশমিক ০৯ বিলিয়ন ডলার। এটি মোট রপ্তানির ১৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
বিশ্ব বাজারে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা ও ঐতিহ্যবাহী বাজারে স্থবির প্রবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে, অপ্রচলিত বাজারে এ প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার বলে মনে করছেন শিল্প মালিকরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু কম দামে পোশাক সরবরাহ করে এ বাজারে টিকে থাকা যাবে না। বরং উচ্চ মানসম্পন্ন ও নতুন ডিজাইনের পোশাক, টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা এবং সাশ্রয়ী অথচ পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়া- এসবই হতে হবে ভবিষ্যতের মূল প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, অগ্রগতি ধরে রাখতে আমাদের পণ্য উদ্ভাবন, বৈচিত্র্য ও চাহিদা অনুযায়ী বাজারভিত্তিক নতুন ডিজাইন এবং পণ্য উন্নয়নে মনোযোগ দিতে হবে। এছাড়া অপ্রচলিত দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সুবিধা সম্প্রসারণে এফটিএ বা পিটিএ চুক্তি করা যেতে পারে। বাংলাদেশি পোশাককে ‘গুণগত মান ও ন্যায্যমূল্যের প্রতীক’ হিসেবে তুলে ধরতে হবে। যোগাযোগ ও সরবরাহ চেইন শক্তিশালী করতে হবে। বিশেষ করে এশিয়া-প্যাসিফিক ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে আরও কার্যকর সরবরাহ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন।’
বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল সংবাদমাধ্যমকে বলেন, অপ্রচলিত বাজারে প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশ রপ্তানি খাতের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। আগামী দিনেও তা অব্যাহত থাকবে।’
কে