দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আগামী অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে আসছে বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অন্তবর্তি সরকারের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মূল্যস্ফীতি কমাতে আর অর্থনীতির দুরাবস্থা দুর করতে তাই প্রত্যাক্ষ করের ওপর নজর বাড়ানোর পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের। সাধারণ মানুষও চায় আকারে বড় নয়, বাস্তবমুখী বাজেট।
শনিবার (৩১ মে) ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের বাজেট ঘোষণার ঠিক আগ মুহুর্তে দেশ টিভির আয়োজনে বাজেট ভাবনায় অংশগ্রহণ করেন অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদরা।
তাদের আলোচনায় উঠে আসে বাস্তবায়ন নির্ভর বাজেট না হওয়ায় মন্ত্রী-এমপিরাই দেশের সেবাখাতে আস্থা না রেখে বিদেশে পাড়ি দেন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
বাজেট প্রণয়নে ব্যয় দেখে আয় নির্ধারণ না করে আয় বুঝে ব্যয় নির্ধারণ করার পরামর্শ দেন অর্থনীতিবিদরা। বলেন, প্রত্যাক্ষ কর বাড়ানোর কার্যকর পদক্ষেপ কোনো বাজেটেই দেখা মেলে না।
আয়ের বড় উৎস রাজস্ব, যা রাজনীতিবিদদের হাতে থাকায় বার বার রাজস্ব আদায় হোঁচট খাচ্ছে উল্লেখ করে আলোচকরা বলেন, যেখানে কর ছাড় দেয়া দরকার সেখানে বাড়ছে, যা অর্থনীতিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই এনবিআরকে ঢেলে সাজানোর পরামর্শ দেন তারা।
সরকারের ঋণ নিয়ে ঋণ ও সুদ পরিশোধের সমালোচনা করে আলোচকরা বলেন, রাজনৈতিক শৃঙ্খলা ছাড়া অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব নয়।
বাজেটে বরাদ্দের ক্ষেত্রে বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে আলোচকরা বলেন, সেবা খাতের কাঠামো তৈরি করলেও তা মানসম্পন্ন না হওয়ায় সেখানে সেবা নেন না নির্মাতারাই।
আগামী অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে আসছে বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অন্তবর্তি সরকারের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মূল্যস্ফীতি কমাতে আর অর্থনীতির দুরাবস্থা দুর করতে তাই প্রত্যাক্ষ করের ওপর নজর বাড়ানোর পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের। সাধারণ মানুষও চায় আকারে বড় নয়, বাস্তবমুখী বাজেট।
রাজনৈতিক সরকার না থাকায় এবার জাতীয় সংসদে উপস্থাপন হচ্ছেনা বাজেট। অর্থ উপদেষ্টার ঘোষণায় যে সংক্ষিপ্ত বাজেট আসছে তা কতটুকো জনগনের প্রত্যাশা পুরোন করবে। অর্থনীতির দুরাবস্থা দুর করতেই বা কেমন হওয়া উচিত এবারের বাজেট।
মূল্যসস্ফীতিতে হাসিনা সরকারের আমল থেকেই টালমাটাল বাজার। সরকার পতনের পর তারল্য সংকটে দুরাবস্থায় ব্যাংক খাত। নিম্নমুখী রপ্তানি ও তলানীতে থাকা রিজার্ভ পুনরুদ্ধার চলমান এখনও। এরই মধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের বাজেট ঘোষণার চাপ অন্তবর্তি সরকারের মাথায়। তবে এবার বাজেটের আকার বড় না করে বাস্তবমুখী বাজেট দেখতে চায় সাধারণ জনগন। খেটে খাওয়া মানুষেরও প্রত্যাশা বাজেটে স্বস্তি ফিরুক বাজার ও দেশের অর্থনীতিতে।
অর্থনীতি নিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের গবেষক মনে করেন, মূল্যসস্ফীতি কমাতে বাজাটে প্রত্যক্ষ করের উপর নজর বাড়াতে হবে সরকারকে। তবে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য বলছে চলতি অর্থবছরের থেকে আগামী অর্থবছরে বাজেটের আকার বাড়তে পারে ৫১ হাজার কোটি টাকা। যেখানে প্রবৃদ্ধি ৫.৫ শতাংশ। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি, এডিপিতে বরাদ্দ বাড়তে পারে ৫ হাজার কোটি টাকা। বেতন ভাতায় ৮ হাজার কোটি টাকা আর সুদ পরিশোধ বাড়তে পারে ৭ হাজার কোটি টাকা। এ হিসেবে মূল্যস্ফীতি ঠেকতে পারে ৭ শতাংশে।
বাড়তে থাকছে বাজেটের আকার, তবে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়না, তাই ঋণের বোঝা কমাতে ব্যয় সাশ্রয়ী হওয়ারও পরামর্শ তার।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট সংক্ষিপ্ত আকারে ৫০ থেকে ৬০ পৃষ্ঠার হতে পারে। যার কর ব্যবস্থাপনা ব্যবসাবান্ধব করা হবে বলেও অন্তবর্তি সরকার থেকে জানানো হয়েছে ইতোমধ্যে।
কে