দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শ্রমিক অসন্তোষে পোশাক কারখানা বন্ধ থাকায় প্রতিদিন আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ডলার। রপ্তানি আদেশ ব্যাহত হওয়া ও ক্রেতার আস্থা হারানোর ঝুঁকিতে উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা। বলছেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে মজুরি বোর্ডের নির্ধারিত বেতন কাঠামো মেনে নেবেন তারা। পাশাপাশি বন্ধ কারখানা সচল করতে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে, অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ, শ্রমিক-মালিকের মধ্যে আস্থা ও কার্যকর সংলাপের মাধ্যমে দ্রুত স্বাভাবিক করতে হবে উৎপাদন।
দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাকশিল্প। রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রার জোগানে বড় অবদান এই খাতের। এদিকে, চলমান শ্রমিক অসন্তোষে একের পর এক কারখানা বন্ধ থাকায় ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন।
বিজিএমইএ'র তথ্য বলছে, ১ নভেম্বর শ্রম অসন্তোষে বন্ধ ছিল ২৫৮টি কারখানা। ওই দিন কাজ না করে ফিরে আসেন ৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৯০ জন শ্রমিক। ২ নভেম্বর বন্ধ কারখানার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৭৯টিতে। পরদিন ৩ নভেম্বর তা কমে আসে ৪৩৪টিতে। বর্তমানে কাজে না আসা শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ।
কারখানা বন্ধের প্রভাব শুধু উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নয়, ব্যাহত হচ্ছে রপ্তানি আদেশ ও সরবরাহব্যবস্থা। রপ্তানিকারকরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ে পণ্য জাহাজীকরণ না হলে ক্রেতার আস্থা হারানো, বাড়তি পরিবহন ব্যয় এমনকি অর্ডার অন্য দেশে চলে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। পোশাক ব্যবসায়ীদের হিসাবে, একদিন উৎপাদন বন্ধ থাকলে বার্ষিক রপ্তানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সমপরিমাণ উৎপাদন ব্যাহত হয়। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিদিন আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ডলার।
তবে মজুরি নির্ধারণ নিয়ে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিজিবিএ মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার কথা বলছে। তাদের মতে, শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিবেচনায় রাখতে হবে মালিকদের আর্থিক সক্ষমতা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্রম অসন্তোষ নিরসনে মজুরি বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিক-মালিকের আস্থা, কার্যকর সংলাপ ও শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। উৎপাদন ও আর্থিক ক্ষতি এড়াতে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার তাগিদও তাদের।
বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার চাপে থাকা পোশাকশিল্পে নতুন করে শ্রম অসন্তোষ বাড়তি চাপ তৈরি করছে। তাই শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, মালিকের সক্ষমতা ও শিল্পের প্রতিযোগিতা, এই তিনের সমন্বয় চান ব্যবসায়ীরা।
কে