দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) নিয়ে আলোচনা শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও বেসরকারি খাতের সহযোগিতা বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। একই সঙ্গে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলো।
সোমবার সিউলে বাংলাদেশের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী জুং-সুং পার্কের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ বিষয়ে ঐকমত্য হয়।
প্রস্তাবিত ওয়ার্কিং গ্রুপে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও ব্যবসায়িক চেম্বারের প্রতিনিধিরা থাকবেন। বিনিয়োগের সুযোগ চিহ্নিত করা, ব্যবসা সহজীকরণ, অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে কাজ করবে এই গ্রুপ।
বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সিইপিএ নিয়ে আলোচনা শেষ হওয়ায় বাংলাদেশ ও কোরিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রচলিত তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের বাইরে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পেও সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ।
এ ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক্স ও সেমিকন্ডাক্টর, জাহাজ নির্মাণ, সামুদ্রিক শিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল ও সৃজনশীল শিল্পকে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি ওষুধ, মেডিকেল ডিভাইস, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, লজিস্টিকস, আধুনিক উৎপাদনশিল্প ও অবকাঠামো খাতেও কোরীয় বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে মূলধন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশন, ইলেকট্রনিক্স শিল্পের কাঁচামালের ওপর শুল্ক ২৬ শতাংশ থেকে শূন্যে নামিয়ে আনা এবং কাস্টমস ও বন্দর কার্যক্রম সহজ করার উদ্যোগও তুলে ধরেন মন্ত্রী।
অন্যদিকে, বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী কোরীয় কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন সমস্যা ও বিনিয়োগসংক্রান্ত আগ্রহের বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে বাংলাদেশের কাছে তুলে ধরতে সম্মত হয়েছেন কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী।
বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা খুঁজছে কোরীয় কোম্পানি: - সফরের অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি হুন্দাই গ্লোভিস, হানওয়া ওশান ও স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল। এসব বৈঠকে লজিস্টিকস, বন্দর, জাহাজ নির্মাণ, ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
হুন্দাই গ্লোভিসের প্রেসিডেন্ট লি কিউ-ব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের লজিস্টিক হাব, বন্দর, অর্থনৈতিক ও মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল এবং অটোমোটিভ সাপ্লাই চেইনে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশে সম্ভাবনা অনুসন্ধানে আগ্রহ দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো এগিয়ে নিতে ওয়ার্কিং-লেভেল টিম গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
হানওয়া ওশানের সঙ্গে বৈঠকে জাহাজ নির্মাণ, মেরামত, ড্রাই ডকিং, সামুদ্রিক অবকাঠামো এবং এফএসআরইউ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিষ্ঠানটি প্রথম পর্যায়ে জাহাজ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করে পরবর্তী সময়ে উচ্চমূল্য সংযোজিত জাহাজ নির্মাণে সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী কারিগরি আলোচনা ও ফলোআপ সফরের মাধ্যমে অগ্রসর হওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই পক্ষ।
এদিকে, স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সের প্রেসিডেন্ট কিম উ-জুনের সঙ্গে বৈঠকে ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল সংযোগ এবং দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে স্যামসাংকে আহ্বান জানান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী। বাংলাদেশে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সিইপিএ-পরবর্তী সুযোগকে বাস্তব বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সুফলে রূপ দিতে বাংলাদেশ কোরিয়া সরকার ও দেশটির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায়।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিল্পের বহুমুখীকরণ, মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোই হবে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের পরবর্তী পর্যায়ের মূল লক্ষ্য।
কে