দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের দর বৃদ্ধি এবং দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। মূল্যস্ফীতির উদ্বেগের মধ্যে বিনিয়োগকারীরা সুদের হারের ভবিষ্যৎ গতিপথ সম্পর্কে ধারণা পেতে ফেডের নীতিনির্ধারণী বৈঠকের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। চলতি সপ্তাহে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার ব্যাপারে ব্যাপক প্রত্যাশা থাকলেও ভবিষ্যতে আবার সুদের হার বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক সময় সকাল ১০টা ৪২ মিনিটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার দশমিক ৫২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের আগাম দামও দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪ দশমিক ৪০ ডলারে নেমেছে।
প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের মান নির্দেশক সূচক দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। এতে সূচকটি প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। ডলারের দর বাড়ায় অন্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের জন্য ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ কেনা ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
অ্যাকটিভট্রেডসের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী রিকার্ডো ইভানজেলিস্তা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং দেশটির সরকারি বন্ডের উচ্চ মুনাফার কারণে স্বর্ণের দাম চাপে রয়েছে। তেলের উচ্চমূল্যের কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত থাকায় ফেডারেল রিজার্ভ কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখবে বলে প্রত্যাশা জোরালো হচ্ছে।’
সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহসংক্রান্ত ঝুঁকি অব্যাহত থাকার মধ্যে মঙ্গলবার তেলের দাম বেড়েছে। সৌদি আরবে হুতিদের নতুন করে হামলার ঘটনা এ অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ১১৬ ডলারে অবস্থান করছে।
ফেডের নীতিনির্ধারকেরা চলতি সপ্তাহে সুদের হার বাড়ানো হবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত থাকায় বিনিয়োগকারীদের ধারণা, সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে।
শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জের ফেডওয়াচ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার বাড়তে পারে বলে বাজারে ৮২ শতাংশ সম্ভাবনা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যান্য প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠকও এ সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের নজরে রয়েছে। ফেডের বৈঠকের পর জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৃহস্পতিবার সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সুদের হার বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগব্যয় বেড়ে যায়। ফলে উচ্চ সুদের পরিবেশে স্বর্ণের চাহিদা ও দামের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।
মূল্যস্ফীতির তথ্যের অপেক্ষা
বিনিয়োগকারীরা এখন বৃহস্পতিবার প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচকের তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন। ফেডারেল রিজার্ভ মূল্যস্ফীতি পর্যবেক্ষণে এই সূচককে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকটির লক্ষ্য মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশে নামিয়ে আনা।
রিকার্ডো ইভানজেলিস্তা বলেন, ‘ফেডের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত কিংবা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশিত হলে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে দাম ৩ হাজার ৯০০ ডলারের দিকেও যেতে পারে।’
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে
মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। প্রতি আউন্স রুপার দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৫৩ দশমিক ২৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫০১ দশমিক ৩০ ডলারে নেমেছে। এ ছাড়া প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১৯ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
/অ